সিসি ডেস্ক: সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামার আগে ঢাকা মহানগর কমিটি করার চিন্তা ছিল বিএনপির। কিন্তু এই কমিটি করার আগে নানামুখী জটিলতা পিছু ছাড়ছে না দলটির। কখনো দায়িত্ব নিতে নেতাদের অনাগ্রহ আবার কখনো কারাগারে পাঠানো হচ্ছে দায়িত্ব দেয়া হবে এমন নেতাদের। সব মিলিয়ে যেন কোনো কূল করতে পারছেন না স্বয়ং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সে কারণেই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়ার প্রায় দুই মাস পরও দলের নীতি নির্ধারকরাও বলছেন- নেত্রীই জানেন কখন দেয়া হবে মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি।তবে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলন করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান সাদেক হোসেন খোকা। অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার জন্য খোকা নির্বাচনের আগে মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আট নেতার কথা বলেন। এতে আবার কেন্দ্রীয় ওইসব নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও মহানগরের অনুগত নেতা ও সাবেক কমিশনারদের নিয়ে বৈঠকও করেন তিনি। এতে আবার নতুন করে মোড় নেয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া।
এরপর আহ্বায়ক হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আর সদস্য সচিব হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন-নবী খান সোহেলের নাম দলের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে তখন আবার দায়িত্ব নিতে নিজের অনাগ্রহের কথা চেয়ারপারসনকে জানান মিন্টু। যদিও এই পদে সোহেলের কোনো আপত্তির কথা শোনা যায়নি।
পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার অনুরোধে মিন্টু রাজি হওয়ায় ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানা যায়। এরইমধ্যে এতদিন গ্রেফতার এড়িয়ে থাকলেও রোববার রাজধানী বিভিন্ন থানার ১১ মামলায় হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
এদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জামিনে মুক্তি পেলেও এই মুহূর্তে সাদেক হোসেন দেশের বাইরে আছেন বলে জানা গেছে। তাই খোকার অনুপস্থিতিতে কমিটি চূড়ান্ত হলেও প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে দলীয় সূত্রে যায়।
এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টাদের দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না। নেতাদের সবারই বক্তব্য প্রায় একইরকম। তারা বলছেন, চেয়ারপারসন সবকিছু জানেন। যোগ্য ও ত্যাগীদের নিয়ে শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করবেন।
তবে, বিএনপি নেতারা একের পর এক কেন্দ্রীয় নেতাদের কারাগারে পাঠানোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে নেতাদের গ্রেফতার করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে বলেও দাবি করেন তারা।
মহানগরের কমিটির বিষয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “শিগগিরই কমিটি হবে। আশা করি, ঢাকায় রাজনীতি করেন এমন ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কমিটি দেয়া হবে।”
আর কমিটিতে থাকতে নিজের কোনো ইচ্ছা নেই দাবি করে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “ম্যাডাম ভালো জানেন। তবে সাবেক ছাত্র ও যুবদল নেতাদের সমন্বয়ে হলে বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি গতিশীল হবে।”
সর্বোপরি বোঝা যায় মহানগর বিএনপির কমিটি কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখবে তা একমাত্র দলের চেয়ারপারসন!