কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুজন ঢাকার আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তারা হলেন মফিজুল ইসলাম ইভান ও সাদ্দাম হোসেন অঙ্কুর।
স্রোতে ভেসে যাওয়ার মুহূর্তে মুমূর্ষু অবস্থায় এ দুইজনসহ ছয়জনকে উদ্ধার হয়। স্থানীয় লোকজন, কোস্টগার্ড সদস্যরা এদের উদ্ধার করেন।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি চারজন হলেন- ফয়সাল, আশিক, ফারহান ও ইফতেখার মাহমুদ। বর্তমানে তারা টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে এ ঘটনায় আরো ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন- সাব্বির, উদয়, নোমান ও বাপ্পী।
নিহত, নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। তাদেরসহ ৩৪ জন শিক্ষার্থীর একটি দল আজ দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিনে যান।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ জানান, এই ৩৪ জন শিক্ষার্থী টেকনাফ থেকে কুতুবদিয়া জাহাজে করে দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিনে পৌঁছেন। তারা সেখানে সেন্ট সৌর রিসোর্টে ওঠেন। বেলা দুইটার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্বীপের জেটি ঘাটের উত্তর-পূর্ব পাশে প্রিন্স হ্যাভেন পয়েন্ট দিয়ে গোসলে নামেন।
কিছুক্ষণ পর ছাত্রদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। স্থানীয় লোকজন গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই পাঁচ ছাত্রকে উদ্ধার করেন। তাদেরকে কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটে করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এনামুল জানান, ছয় শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনার পর দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, যে পয়েন্টে ওই ছাত্ররা নেমেছিলেন সেখানে পানির স্রোত বেশি ছিল। আর তখন ভাটা থাকায় স্রোতের টানে হয়তো ভেসে গেছেন।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিৎ বড়ুয়া জানান, নিখোঁজ ছাত্রদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।