সিসি নিউজ: উপজেলা পরিষদ আইন সংশোধন করা ছাড়া একদিনে ভোট গ্রহণ ও নির্বাচনী সহিংসতা কমানোর কোনো বিকল্প নেই। তাই উপজেলা পরিষদ আইনে সংশোধনী আনতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন আইন শাখা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ আইন সংশোধন করে এমপিদের মতো গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ নেওয়ার ব্যবস্থা রাখার কথা চিন্তা করছে কমিশন।এ বিষয়ে শিগগিরই কমিশনের বৈঠকে আলোচনার পর নাগরিক সমাজ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত- সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন একাধিক নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনা তথ্যানুসারে ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও ১৯৯০ সালে দ্বিতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এবারই প্রথম আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে চতুর্থ্ উপজেলা পরিষদের ভোট ভিন্ন দিনে করতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।
বর্তমান উপজেলা পরিষদ আইনে অনুযায়ি, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক শপথবাক্য পাঠ করানোর বিধান রয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
আাবার বর্তমান আইনে বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। যার ফলে নির্বাচনও একসাথে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়না।
অনুষ্ঠিতব্য চতুর্থ্ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সহিংসতা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বলেন, দল নিরপক্ষ নির্বাচন যখন দলীয় রুপে প্রকাশ পায় তখন নির্বাচনকে সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার এবারই প্রথম ধাপে ধাপে ভোটের ফলে সহিংসতার মাত্রা আরো তীব্র হয়েছে।
এরশাদের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যে অনিয়মগুলো ছিলো, দুই দশক পর আবার এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোটের অনিয়মগুলো নতুন মাত্রা ও কৌশল যুক্ত হয়ে আবার ফিরে এসেছে।
সকল নির্বাচন শেষে একসাথে ফলাফল প্রকাশ করা হলে নির্বাচনে সহিংসতা অনেকটা কমে আসতো মনে করছেন নির্বাচন বিষয়ক এ বিশ্লেষক।
নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজও স্বীকার করে বলছেন, ধাপে ধাপে নির্বাচন করা কমিশনের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল । এমনকি ধাপে ধাপে ফল প্রকাশ করাও সঠিক হয়নি।
তিনিও মনে করেন, সব ভোট গ্রহণ শেষে একসঙ্গে ভোটের ফল প্রকাশ করতে পারলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা অনেক কম হতো। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে নির্বাচন করতে হয়েছে। এখন আইন সংশোধন করা ছাড়া একদিনে ভোট গ্রহণ ও নির্বাচনী সহিংসতা কমানোর কোনো বিকল্প নেই।