সিসি নিউজ: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চাঞ্চল্যকর রোজবুল হক প্লাবন হত্যা মামলায় রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আসামিদের ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামসুল আলম খান এ আদেশ দেন।
একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন জিয়াউল হক জুয়েল, ফরিদুল হক রুবেল, সুরুজ হক লিটন, মুশফিকুর রহমান রিপন, লিয়াকত ও আবুল বাশার লিটন। এরা সবাই পলাশবাড়ী উপজেলার দুনিয়াবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৩ জুন রাত ৮টার দিকে আসামিরা দুনিয়াবাড়ী বাজারে আসাদুজ্জামানের দোকানে উপস্থিত হয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় আসাদুজ্জামান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার পুত্র এসএসসি পরীক্ষার্থী রেজাবুল হক প্লাবনকে (১৬) অস্ত্রের মুখে জিম্মির পর অপহরণ করে আসামিরা। এরপর আসামিরা প্লাবনকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
এ ঘটনার পর আসাদুজ্জামান পুলিশের সহায়তায় প্লাবনকে উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পরামর্শে প্লাবনকে পরের দিন ১৪ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুন প্লাবন মৃত্যুবরণ করে।
এ ঘটনার পর একই দিন প্লাবনের বাবার আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০০৭ সালের ৪ মে আদালতে চার্জশিট উপস্থাপন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সুধীর চন্দ্র বর্মণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি এন্তাজুল হক বাবু। আসামিপক্ষে ছিলেন হামিদুল হক ও আবু বক্কর।