ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে (সিএমএম) মামলা দু’টির চার্জশিট দাখিল করেন। দুদকের এ কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুই মামলার চার্জশিটে ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ৫১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের ১৮ মাস পর ১৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক। সে থেকে সাড়ে ৩ মাস ধরে চলছে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি। একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম এই চার্জশিট প্রস্তুত করেছে।
ডেসটিনি মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ লি. মামলার চার্জশিটের আসামিরা হলেন- সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ ও ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ রফিকুল আমীন, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, ফারাহ দীবা, সাঈদ-উর-রহমান, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, জমশেদ আরা চৌধুরী, ইরফান আহমেদ, শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া, এসএম আহসানুল কবির, জুবায়ের হোসেন, মোসাদ্দেক আলী খান, আবদুল মান্নান ও আবুল কালাম আজাদ।
ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা চার্জশিটে আসামি করা হচ্ছে আজাদ রহমান, মোঃ আকবর হোসেন সুমন, সাঈদুল ইসলাম খান (রুবেল), মোঃ সুমন আলী খান, শিরীন আকতার, রফিকুল ইসলাম সরকার, মোঃ মজিবুর রহমান, লেঃ কর্নেল (অব.) মোঃ দিদারুল আলম, ড. এম হায়দারুজ্জামান, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, কাজী মোঃ ফজলুল করিম, মোল্লা আল আমীন, মোঃ শফিউল ইসলাম, মোঃ জিয়াউল হক মোল্লা, সিকদার কবিরুল ইসলাম, মোঃ ফিরোজ আলম, ওমর ফারুক, সুনীল বরণ কর্মকার ওরফে এসবি কর্মকার, ফরিদ আকতার, এস সহিদুজ্জামান চয়ন, আবদুর রহমান তপন, মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খান, এসএম আহসানুল কবির (বিপ্লব), এএইচএম আতাউর রহমান রেজা, গোলাম কিবরিয়া মিল্টন, মোঃ আতিকুর রহমান, খন্দকার বেনজীর আহমেদ, একেএম সফিউল্লাহ, শাহ আলম, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মিসেস জেসমিন আক্তার (মিলন) ও মোঃ শফিকুল হক।
এর আগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনি গ্র“পের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এক মামলায় ১৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেডের মামলায় অভিযোগ আনা হয় ২১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের। সাক্ষী করা হয়েছে ১৫০ জনকে।