সিসি নিউজ: ভোটার তালিকায় সংরক্ষিত তথ্য ওয়েভ সাইটে উন্মুক্ত করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) উদ্যোগ নিলেও আইনি জটিলতা এবং তথ্যগত নিরাপত্তার অজুহাতে আপাতত তা হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একজন কমিশনারের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিষয়টি সভার এজেন্ডাভূক্ত হলেও সভায় তা নাকচ হয়ে যায়। তবে, কমিশন বিষয়টি আরও গভীরভাবে বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছে।
জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবাকে সহজীকরণ করতে এ ধরণের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল। যদিও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইনে এ ধরণের কোনো সুযোগ নেই। নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলে অপরাধীরা এর সুযোগ নিতে পারে; যা ভোটারদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে জানান ইসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ধারা ১৩(২) অনুযায়ী কমিশনে সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত গোপনীয় বলে বিবেচিত। ভোটারদের সব তথ্য উন্মুক্ত করতে হলে আইন সংশোধন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ইসির তথ্যভান্ডার থেকে নাগরিক তথ্য ব্যবহার করে থাকে। এ বিষয়ে ইসির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নাগরিকদের আরো ২ ধরণের তথ্য দেখার অনুমতি চেয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘২০১২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী কমিশনের সার্ভার থেকে সুনির্দিষ্ট ছয়টি তথ্য দেখার অনুমোদন দেয়া হয়। এখন তারা আরও দুটি তথ্য চেয়ে আবেদন করেছে। তথ্য দুটি ভোটারের স্থায়ী ঠিকানা ও স্বামী-স্ত্রীর তথ্য। আমরা আজকের সভায় বিষয়টি অনুমোদন করেছি।’
এর আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাইয়ের জন্য তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার চেয়ে আবেদন করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), সামরিক প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুরেলটরি কমিশন (বিটিআরসি), পরিসংখ্যান ব্যুরো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ। ওই সব আবেদনও বিবেচনায় রেখে প্রবেশাধিকার দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তবে এবার প্রথমবারের মত ভোটারদের এসএমএস (মোবাইল মেসেজ) এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানাবে। আগামী ১২ জুন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হবে বলে জানায় কমিশন।