সিএসএমতপন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী): নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার বিকেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্টাফ নার্সের অবহেলায় নিলুফা ইয়াসমিন (১৩) নামে এক বিষপান রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিলুফা ইয়াসমিন কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের নুলু মিয়ার মেয়ে। এঘটনায় মৃত্যের পরিবার ও উপস্থিত লোকজনের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরলে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ,গত রবিবার নিলুফা পারিবারিক ঘটনার জের ধরে বিষপান করলে ৪টা ২০মিনিটে তাকে কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। ৪টা ৪০মিনিট পর্যন্ত জরুরী বিভাগে কোন ডাক্তার কিংবা নার্সকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ঝাড়ুদার কালা মামুদ মোটা পাইপ দিয়ে ওয়াস করলে রোগীর পাকস্থলি ফুটো হয়ে মুখ দিয়ে অনারগল রক্তক্ষরন হতে থাকে। ২০ মিনিট পর ডাক্তার কামরুন্নাহার সিফাত ও স্টাফ নার্স নাসির উদ্দিন আসে। ততক্ষণে রোগীর অবস্থা বেগতিক হয়ে পরে। নিলুফার নানা বাচ্চু মিয়া ও বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন,ওয়াস করার আগে নিলুফা কথা বলছিলো। সঠিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হলে আমার নাতনি মারা যেত না। ডাক্তারদের অবহেলার কারনেই আমার নাতনির মৃত্যু হয়েছে।এব্যাপারে স্টাফ নার্স নাসির উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষপানের রোগী হাসপাতালে আসার আগে থেকে আমি অন্য একটি রোগীর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম।পরে এসে রোগীটিকে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু অতিরিক্ত কিটনাশক পান করার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তার কামরুন্নাহার বলেন, হাসপাতালে অন্য ডাক্তার না থাকায় আমি দুইদিন ধরে একটানা ডিউটি করে যাচ্ছি।তাই বিশ্রাম নিতে বাসায় গিয়েছিলাম। মেডিকেল টেকনোলোজিষ্ট জুয়েলের ফোন পেয়ে তাড়াতাড়ি ছুটে আসি।তিনি কর্তব্য কাজে অবহেলার কথা অস্বীকার করেন। এব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,মেয়েটি মারা যাওয়ার পরে ওখানে একটু বিশৃংখলার সুষ্টি হয়েছিল আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শরিফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান,ডাক্তাররা সব সময় রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে মেরে ফেলতে চায় না।আমি টের্নিংয়ে বাইরে আছি ঘটনাটি শুনেছি। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমি ঘটনাটি শুনেছি। গাড়ি না থাকার কারনে আমি সেখানে যেতে পারিনি।তবে কেউ যদি দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।