• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

পীরগঞ্জের আঁখিরা নদী খননের কাজ না করেই বিল !

Rangpurসিসিনিউজ ডেস্ক: রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মাহবুবার রহমানের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জের আঁখিরা নদী খননে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাজ না করে ইতিমধ্যে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। এই টাকার ভাগ পেয়েছে খনন কাজে নিয়োজিত তিন প্রভাবশালী ঠিকাদার। তবে তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন আমাদের কাজ এখনও চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক প্রকৌশলী জানান, আগামী ৩১ মে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ চাকরি থেকে অবসরে যাচ্ছেন। অবসরে যাওয়ার আগে তিনি আঁখিরা নদী নামমাত্র খনন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিল ছাড় করিয়েছেন । আর তাকে সহযোগিতা করেছেন এসও মাহবুবার রহমান। বিষয়টি যাতে বেশিদূর না গড়ায় সে জন্য এসও মাহবুবার রহমান দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন বলেও জানান তারা । এতে করে আঁখিরা নদী খননে সরকারের বরাদ্দকৃত প্রায় ২ কোটি টাকা অপচয়ের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায় , উপজেলার কুমেদপুর ও রায়পুর ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত আঁখিরা নদীটির ১০ কিঃ মিঃ খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১ কোটি ৯০লাখ টাকা বরাদ্দ করে। খনন কাজের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ১০টি গ্রুপকে এ কাজ দেওয়া হয়। ঠিকাদার ময়নাল হোসেন, মামুন মিয়া, শাহাদত হোসেন, মাসুদ রানা, মুক্তি ও বিপ্লবসহ ১০ জন এ কাজ পেয়েছেন।

আঁখিরা নদীর ত্রি-মোহনী ব্রীজ এলাকার দক্ষিণে ৮ কিঃ মিঃ এবং উত্তরে ২ কিঃ মিঃ খনন কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ শ্রমিক এবং ছোট স্ক্যাবাডার মেশিন দিয়ে নাম মাত্র খনন কাজ করে যাচ্ছেন। এখনও ২টি গ্রুপ (২৩ ও ৩২ নং) খনন কাজ শুরুই করেনি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বৃষ্টি হলে খনন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে আর এই সুযোগে ঠিকাদাররা কাজ না করে কাজের অর্থ আত্মসাত করবেন। খননে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একাধিকবার কাজ বন্ধ করে দেয়।

এ ব্যাপারে চন্ডিপুরের শরিফুল, সুমন, রাঙ্গা, মশিউর, হুমায়ন, সাদেকুলসহ এলাকাবাসী জানান, নদী খোঁড়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম করছে ঠিকাদাররা। শুধু নদীর পাড়ের ঘাস কেটে পাড় বেঁধে সাইজ করা হচ্ছে।

অপরদিকে ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১ নং গ্রুপে স্ক্যাবাডারের পরিবর্তে সাধারণ শ্রমিক দিয়ে কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। তাদেরকে বিল প্রদান করা হয়েছে বলে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

নদী খননে সাব ঠিকা নেয়া ঠিকাদার গোলাম রব্বানী জানান, সকলের মনজয় করে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। কাজ বুঝে নেয়ার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সর্দার আমিনুর রহমান জানান, আমাকে বলা হয়েছে নদীর দুপাড়ের উচু নিচু জায়গা কেটে সমান করার জন্য। আমি তাদের কথা মত কাজ করছি।

কাজ তদারককারী রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মাহবুবার জানান, বিল প্রদান করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ। কাজ হয়েছে কিনা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমার দায়িত্ব কাজ দেখা। বিল প্রদান নয়।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিবের সাথে মোবাইল ফোন ০১৭১৫-০৬৬০৮৬-তে গতকাল শনিবার দুপুর ১ টা ৩৬ মিনিটে কথা হলে তিনি জানান, আমি ঢাকায়, মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে আছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিষয়ে বলতে পারবেন।

রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, কাজ শুরু না করায় ২৩ ও ৩২ নং গ্রুপকে এখনো বিল দেয়া হয়নি। কাজ না করে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। তিনি এক পর্যায়ে বলেন, কাজ করতে গেলে কিছু অনিয়ম হয়ে থাকে। আপনি অফিসে আসেন কথা হবে। এই বলে তিনি ফোন রেখে দেন।

উৎসঃ   বাংলানিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ