• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

নেতৃত্ব নিয়ে ছাত্রদলে হতাশা

BNPসিসিনিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছাত্রদলে নতুন কমিটি চাইছে সংগঠনটির একাংশের নেতারা। কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবের নেতৃত্বের বিপক্ষে কমিটির অনেকেই।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, নতুন কমিটির দাবি নিয়ে আগামী ২-১ দিনের মধ্যে বেশকিছু নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন। এমনকি ৮ জুন ছাত্রদল নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখাও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ থাকায় ছাত্র নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি।
জানা গেছে, ছাত্রদল পুনর্গঠন ইস্যুতে ২৯১ সদস্যের মধ্যে সংগঠনটির সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ স্বাক্ষর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ওই নেতাকর্মীদের ছাত্রদল পুনর্গঠনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। সেই সঙ্গে তাদের নেয়া স্বাক্ষর কর্মসূচি স্থগিত রাখতে বলেছেন। ছাত্র নেতারা এ্যানির উপদেশ গ্রহণও করেছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একজন সহ-সভাপতি বাংলামেইলকে বলেছেন, ‘আমরা কারো বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাচ্ছি না। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বার বার বলেছেন জুয়েল-হাবিব জেল থেকে বের হলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি দেয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা ঐক্যমত হচ্ছি মাত্র।’
কমিটি পুনর্গঠনের যুক্তি কী, এমন প্রশ্নে অপর একজন নেতা বলেন, ‘সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কারামুক্ত হওয়ার পর মাত্র দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহ-সভাপতি এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে প্রথম বৈঠক আহ্বান করা হয়। সেখানে মাত্র ২৩ জন উপস্থিত ছিল। আবার ছাত্রদলের যে ২০টি টিম গঠন করা হয়েছিল তাদের নিয়ে সভা আহ্বান করলে সেখানে উস্থিত হয় মাত্র ১৩ জন। বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা নেই বলে অনেকেই সভায় আসেন না।’
একজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইতিপূর্বে ছাত্রদলের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপ থাকলেও এই প্রথম ছাত্রদলে দুটি প্ল্যাটফর্ম হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো যারা খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন কমিটি চাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতিসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আগামী অক্টোবর-নভেম্বর যে আন্দোলন হবে সেখানে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে কাজে লাগাতে হবে। সর্বপ্রথম ছাত্রদল পুনর্গঠন করা হলে সেখান থেকে যারা বাদ পড়বে ক্রমান্বয়ে তারা যুবদল বা স্বেচ্ছাসেবক দলে ঠাঁই পেতে পারে।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় একজন সদস্যের মতে, ‘ম্যাডাম যে আস্থা নিয়ে বর্তমান নেতৃত্বকে নির্বাচন করেছিলেন। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ। শুধু তাই নয়, তাদের যে চেষ্টার ক্ষেত্র ছিল সেখানেও স্বচ্ছতার যথেষ্ট ঘাটতি এবং সন্দেহের অবকাশ ছিল। সুতরাং বুঝতেই পারছেন একটি আস্থাহীন নেতৃত্ব দ্বারা ছাত্রদলের মতো একটি সংগঠন সচল রাখা সম্ভব নয়। যার জন্য নতুন নেতৃত্ব সময়ের দাবি।’
নতুন কমিটির দাবিতে স্বাক্ষর কর্মসূচির সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি গোলাম মওলা শাহীন, কামাল আনোয়ার আহমেদ, আবু সাইদ, শহীদুল্লাহ ইমরান, তরুণ দে, রাজু তালুকদার, জাভেদ হাসান স্বাধীন প্রমুখ রয়েছেন।
কামাল আনোয়ার আহমেদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাতৃতুল্য। তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যতদ্রুত সম্ভব আমরা নতুন কমিটি চাইছি।’
আবু সাইদ বলেন, ‘ছাত্রদলের অচল অবস্থা কাটাতে আমরা নতুন কমিটির দাবি করছি।’
এ বিষয়ে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসানের কাছেও জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উৎস: বাংলামেইল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ