সিসিনিউজ: চুক্তি ভঙ্গ করায় বাটা সু কোম্পানীর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সু স্যালন নামের একটি প্রতিষ্ঠান আদালতে ওই মামলা দায়ের করেছেন। কোম্পানীর অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রায় ৬০ লাখ টাকার পুঁজি হারাতে বসেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা: জিকরুল হক সড়কস্থ অধুনালুপ্ত আবাসিক হোটেল গোল্ডেন প্যালেসের নীচতলায় রয়েছে ‘সু স্যালন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র বাটা সু কোম্পানীর উৎপাদিত পণ্য ওই প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় করা হয়। সূত্র মতে, ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেন ওই কোম্পানীর স্থানীয় ডিলার হিসেবে নিয়োজিত হয়ে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ওই সময় কোম্পানীর সাথে যৌথ স্বাক্ষরে একটি চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়।
বাটা সু কোম্পানীর ডিলার দেলোয়ার হোসেন আজ রবিবার সকালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সু স্যালন-এ ক’জন সংবাদকর্মীকে জানান, ডিলারশীপ প্রদানের সময় সম্পাদিত চুক্তিপত্র উপেক্ষা করে বাটা সু কোম্পানী কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের পহেলা মার্চ সু স্যালন’র ৫২ মিটার দুরত্বে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালুর উদ্যোগ নেয়। যা সম্পাদিত চুক্তির ২৪নং শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। ওই শর্তে উল্লেখ ছিল একই রোডে কোম্পানী কর্তৃক প্রদত্ত ডিলারের প্রতিষ্ঠানের ২০০ মিটারের মধ্যে বাটা সু কোম্পানীর কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে না। সু স্যালন’র মালিক প্রথমে কোম্পানীর নন-রিটেইল সেলস্ ম্যানেজারকে লিখিত ভাবে শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি জানান। কিন্তু বাটা কোম্পানী কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরত্ব না দিয়ে তাদের অবৈধ ভাবে নির্মিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করে। ফলে ১১ মার্চ নীলফামারীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে (সৈয়দপুর) ডিলার দেলোয়ার নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা (নং ১১/১৪) দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত ২১ মে চুক্তি ভঙ্গ করে কোম্পানীর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মকান্ড বন্ধের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু কোম্পানী কর্তৃপক্ষ আদালতে ওই আদেশকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্বিঘেœ পরিচালনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ৮ জুন আদালত অবমাননার অভিযোগে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি: চিপপানকে মূল বিবাদী করে চুক্তি ভঙ্গ করে নির্মিত প্রতিষ্ঠানের ৫ কর্মচারীকে মোকাবিলা বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন বাটা কোম্পানীর বৈধ ডিলার দেলোয়ার হোসেন। মোকাবিলা বিবাদীরা হলেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আমিনুল, সেলস্ম্যান রাজু, লাবলু, হান্নান ও লিটন।
সু স্যালন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও বাটা কোম্পানীর ডিলার দেলোয়ার হোসেন জানান, কোম্পানীর ওই অবৈধ প্রতিষ্ঠানের ফলে তিনি আর্থিকভাবে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীণ। তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।