সিসিনিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিকাশ কর্মী হাবিবকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গুলি করে ২২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হত্যা মামলাটি গত এক বছরেও কোন রহস্য উন্মোচন হয়নি। এতে সন্তানহারা পরিবারটি ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে জীবন যাপন করছেন।
সেদিন যা ঘটে ছিল: ২০১৩ সালের ২২শে জুন বেলা ১১টায় বিকাশ কর্মী হাবিব, সোহেলসহ ৫ জন মিলে ৩টি ব্যাগে ২৯ লাখ টাকা নিয়ে শহরের ব্যস্ততম এলাকা কলিম মোড়ে বিকাশ অফিসে যাচ্ছিল। এ সময় পূর্ব থেকেই ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাত ৬ দুর্বৃত্ত দুইটি নম্বরবিহীন ডিসকভার গাড়ি নিয়ে ওই মোড়েই পথরোধ করে। এ সময় দুই বিকাশ কর্মী হাবিব ও সোহেলের কাছে থাকা ২২ লাখ টাকার দুইটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এতে হাবিব বাধা দিলে ওই মোড়েই কাটা রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আর টাকার ব্যাগ নিয়ে পালানোর সময় বেপরোয়া গুলি ছুড়লে সোহেল নামে বিকাশ কর্মী সহ এক পথচারিও আহত হয়।
ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলিম মোড়ের মুন্না নামে এক পান দোকানদার জানান, হঠাৎ গুলির শব্দ আর বিকাশ কর্মীদের ব্যাগ নিয়ে ছিনিয়ে পালিয়ে যায় ২টি মোটর সাইকেলে ৬ যুবক। এরপর পরই ঘটনাস্থলেই হাবিব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তবে তাদের কাউকেও চেনা যায়নি।
মামলা দায়ের: প্রকাশ্য এ হত্যাকান্ডে নিহত হাবিবের বড় ভাই হারুন বাদি হয়ে ওইদিনই সন্দেহভাজন হিসেবে অজ্ঞাতদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করা হয় সাইদুল ইসলাম, সোলায়মান, জামিল, আসাদুল্লাহ, মোন্নাফ আলী, আশরাফুল, বাবু, বাবুল মিয়াকে। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়েও কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। মামলার বাদি হারুন জানায়, ওই সময় তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাকে সন্দেহভাজনদের নাম দিলেও তারা তাকে গ্রেফতার করেনি। আর গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের নামে তারা বিশাল বাণিজ্য করেছে বলে অভিযোগ করেন।
কেমন আছে হাবিবের পরিবার: এ হত্যাকান্ডের বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার নিহত হাবিবের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার বিধবা মা হাসিনা বেগমের সাথে। হাসিনা বেগম জানান, আমার সন্তান পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে এমন অজানা আতংক কখনই ছিল না। কারণ মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে সে ডিগ্রি পাশ করে। তার ইচ্ছে ছিল মাস্টার্স পড়বে। তাই বিদায় মুহূর্তের আগে তিনশত টাকা চেয়েছিল। আমি তাকে দিয়েছি। যাওয়ার সময় তার একমাত্র ভাতিজি সুমাইয়াকে নিয়ে আদর করে বিদায় বলেছিল। যা আমি বুঝতে পারিনি এটিই হবে আমার হাবিবের শেষ বিদায়। নিহত হাবিবের মা আরও বলেন, বিকাশ কোম্পানীতে চাকরী করে যা বেতন পেতো তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলতো। হাবিবের অভাব হাড়ে হাড়ে এখন টের পাচ্ছি- এ বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হাসিনা বেগম।
সৈয়দপুর বিকাশ’র ডিস্ট্রিবিউটর তারিকুল আলম সিসিনিউজকে জানান, হাবিব হত্যা মামলাটির প্রতি যেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কর্তৃপক্ষের অনীহা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছরে মামলার কোন রকমের অগ্রগতি নেই। শীঘ্রই রহস্য উদঘাটন হবে- শুধু এমন আশার বানী শোনা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি প্রশাসনের কাছ থেকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিকাশ’র পক্ষ থেকে হাবিবের পরিবারকে স্থায়ী রুজি-রোজগারের একটা ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ক’দিনের মধ্যে তা কার্যক্রম শুরু হবে।
এ নিয়ে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আব্দুল আউয়াল জানান, আমি সবেমাত্র এখানে এসেছি। তারপরেও প্রকৃত হত্যাকারীসহ সহায়তাকারীদের গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা চলছে।