সিসিনিউজ: দিনাজপুরের খানসামায় প্রেমিকার পেটে সন্তান আসায় পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের পর এসিড আর বিষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে এক প্রেমিক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামে।
জানা গেছে, উপজেলার দুবলিয়া গ্রামের প্রফেসার পাড়ার তরকারী বিক্রেতা রমেশ চন্দ্র রায় ওরফে বানিয়ার মেয়ে স্মৃতি রানীর (১৬) সাথে একই এলাকার প্রফেসার ব্রজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে সুব্রত রায় (২২) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে প্রেমের সম্পর্ক ধরে দৌহিক সম্পর্কের এক পর্যায় স্মৃতি অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং খবর জানতে পেরে সুব্রত পেটের সন্তান নষ্ট করতে বলে। এতে প্রেমিকা রাজী না হওয়ায় গত ২২ জুন সকালে সে পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে একাকী গোসল করতে গেলে সুব্রত রায় তাকে মুখ চেপে ধরে পুকুর পাড় সংলগ্ন একটি পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের পর মুখে এসিড ও বিষ দিয়ে হত্যা চেষ্টা করলে সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে এবং সুব্রত তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।
এদিকে মেয়ে গোসলে গিয়ে দীর্ঘ সময়ে ফিরে না আসায় তার মা ও পরিবারের লোকজন খোঁজা-খুজি করতে থাকে। খোঁজা-খুজির এক পর্যায়ে পুকুর পাড়ে গেলে ওই পাটক্ষেত থেকে মেয়ের গলার গড়গড় আওয়াজ শুনে পাটক্ষেতে গেলে মেয়েকে কাদা মাখা বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে চিৎকার দিয়ে তিনিও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে প্রতিবেশিরা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাকেরহাট হাসপাতালে ভর্তি করান এবং
অবস্থা বেগতিক দেখে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর মেয়েটি সুস্থতা লাভ করলে বাড়িতে নিয়ে আসার পথে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় চিকিৎসক অবিনাশ চন্দ্র পালের কাছে নিয়ে যান। বর্তমানে প্রেমিকা বিয়ে দাবিতে সুব্রত রায়ের বাড়িতে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় মেয়েটির সাথে কথা হলে সে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। অপরদিকে সুব্রত রায়ের প্রভাবশালী পিতা ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রফেসার ও তার লোকজন ছেলের প্রেমিকাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে লোকজন নিয়ে পাহারায় বসেন এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রফেসার ব্রজেন্দ্রনাথ এটিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করছে বলেও এলাকাবাসী জানায়।
এ ব্যাপারে খানসামা থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মেয়ের পরিবার। তবে, প্রফেসার ব্রজেন্দ্রনাথ রায় জানান, এটি সাজানো ঘটনা। মেয়ের পরিবার আমার সুনাম ক্ষুণœ করে আমাকে ফাঁসাতে এসব ঘটনা করছে।