সিসিনিউজ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সিলেট জাতীয় পার্টি অনেকটা ‘দেউলিয়া’ হয়ে গেছে। নগরী বা জেলার কোথাও দলটির নেতাকর্মীদের তৎপরতা নেই। কোনো ধরণের যোগাযোগ নেই কারো সঙ্গে। কোনো ধরণের সভা-সমাবেশও করেনি এ দলটি।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই সিলেটের জাপা নেতারা ‘দেউলিয়া’ হওয়ায় নানা গুঞ্জনও চলছে। সময়ের বিবর্তনে সিলেটে এ দলটি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন হতাশার চিত্রই পাওয়া গেছে।
চলতি সংসদে প্রধান বিরোধীদল হিসাবে মর্যাদা থাকলেও সিলেটের রাজপথে পা পড়ছে না জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের। কোনো ধরণের দাবি আদায়ে আন্দোলন সংগ্রামেও তারা নেই। সরকারের পক্ষে কিংবা বিপক্ষেও অবস্থান নেই সিলেটের নেতাদের। কোনো কারণ ছাড়াই যেন সিলেটের জাপা ‘হাওয়া’ হয়ে গেছে। প্রধান বিরোধীদল হলেও তাদের নীরবতা রাজনৈতিক অঙ্গনে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট জাপার পদধারী অনেক নেতাই প্রবাসী। তাদের অনেকেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসে। আবার যারা দেশে আছেন তারাও নানা কারণে মান অভিমান দিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন রাজনীতির মাঠে।
এক সময় সিলেটে জাপার শক্ত অবস্থান থাকলেও বর্তমান সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতায় দলটি বিলীন হতে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক সিনিয়র নেতা। তবে কি কারণে এমনটি হচ্ছে এর নেপথ্যের কারণও রয়েছে অজানা। স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা নাকি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কর্মসূচি না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি এমন প্রশ্নের উত্তরও মিলছেনা।
সূত্র মতে, সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির কমিটি থাকলেও কার্যক্রমে নেই। আর মহানগর জাপা তো মেয়াদোত্তীর্ণ। তাই কেউ মাঠে নামছেন না। দলীয় কোন কর্মসূচিও নেই। এ কারণেই জাপায় নীরবতা, আর নেতাকর্মীদের ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়া! প্রধান বিরোধী দলে থেকেও আমাদের কোনো বিরোধীদলের ভূমিকা নেই। অনেকেই আবার সরকারের সঙ্গে থাকাটাও ভালো চোখে দেখছে না। এ কারণেই সিলেট জাপার এমন দশা।’
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ সিদ্দিকীর মতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সিলেটের অনেক নেতাকর্মী পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসে। আর যারা দেশে আছেন তারাও রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। কি কারণে তারা দেশে থেকেও নিষ্ক্রিয় এমন প্রশ্নের উত্তরে দলটির এই প্রবীন নেতা বলেন, জাপা বিরোধীদলে থাকলেও বিরোধীদলের কোনো ভূমিকায় নেই। আবার সরকারের সঙ্গে থাকাটাও স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভালোভাবে দেখছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে সময়ের বিবর্তনে সিলেটে জাপার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা এই নেতার।
সিলেট জেলা জাপার সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস শহীদ লস্কর বশির বলেন, ২০১৩ সালের শেষ সময়ে জেলা জাপার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সভাপতি সেলিম উদ্দিন এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক বলতে পারবেন কি কারণে সভা-সমাবেশ কিংবা দলীয় কর্মসূচি হাতে নেয়া হচ্ছে না। তবে চাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা যেত। এতে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হতো।
উৎস: ঢাকাটাইমস