• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পরীক্ষার সময়সূচিতে বিরতি থাকবে না : শিক্ষামন্ত্রী

Nahidসিসিনিউজ: বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে। দেড় মাস ধরে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া আর সম্ভব নয়। সরকারি ছুটি ছাড়া পরীক্ষার মাঝে কোনো গ্যাপ বা বিরতি দেয়া হবে না। এইচএসসির প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সাংবাদিকদের অবহিতকরণকালে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রশ্নের নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সম্প্রতি সমাপ্ত এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র ও গণিত দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করার কথা স্বীকার করেন শিক্ষামন্ত্রী। অথচ তিনিই (শিক্ষামন্ত্রী) ওই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, গত পাঁচ বছরে পাবলিক পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টিআইবির রিপোর্ট অনেকটাই অবাস্তব ও অসম্ভব।
এইচএসসির প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সম্পর্কে বুধবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আহূত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় শিক্ষাসচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, তদন্ত কমিটির প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) এ এস মাহমুদ, তদন্ত কমিটির সদস্য যুগ্ম সচিব রুহি রহমান, আহসানুল জব্বার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামীতে স্বল্প সময়ের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে। সেটি আগামী তিন-চার মাস পরে অনুষ্ঠিত জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার সময় থেকেই শুরু করা যাবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি তিনি। পরীক্ষা পদ্ধতিতে কতটুকু পরিবর্তন আনা হবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং প্রশ্নের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রশ্নের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার, তা আমরা করব। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে আরো কঠোর করা হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সব ব্যবস্থাই নেয়া হবে।
চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র ও গণিত দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কথা স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসিতে ৫৫টি বিষয়ে ১১০টি প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। তার মধ্যে কয়েকটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এতে দু’টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে কথা বলেছেন। অনেকে তদন্ত কমিটিকে প্রশ্ন ফাঁস হওয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছেন; কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রকে ধরার জন্য যে উৎসের তথ্য প্রয়োজন তা কেউ-ই দেননি। এমনকি কোনো কোনো বিশিষ্টজন ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের নমুনা তদন্ত কমিটিকে সরবরাহ করেছেন; কিন্তু কোনো উৎস জানাতে তারা অপারগতা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জাফর ইকবালের সাথে তদন্ত কমিটির পুরো টিমের দীর্ঘ আলোচনার উল্লেখ করে বলেন, তিনি প্রশ্ন কোথায় পেয়েছেন, তা কমিটিকে জানাতে অস্বীকার করেছেন।
৮ এপ্রিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর গত ৯ এপ্রিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরদিন অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসাইনকে প্রধান করে সাত সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী জানান, প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি সুনির্দিষ্টভাবে চারটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে দু’টি হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর। এর একটি সুপারিশে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংশোধন ও প্রশ্ন নির্বাচনের কাজটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে করতে বলা হয়েছে। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারীদের কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে তা তথ্যভাণ্ডারে রাখা হবে। সেখান থেকে প্রশ্নপত্রের সেট তৈরির কাজটি হবে।
পরের সুপারিশও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর। উল্লিখিত পদ্ধতিতে প্রশ্নের সেট করার পর একাধিক সেট সুরক্ষিত যন্ত্রের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কয়েক দিন আগেই পাঠানো হবে। প্রশ্নপত্রের জন্য ব্যবহƒত ডিভাইসে তিন স্তরে নিরাপত্তাব্যবস্থা (ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, বায়োমেট্রিকস, ইউজার অ্যাকসেস কার্ড) প্রবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত সময়সীমার মধ্যে প্রশ্নপত্র খোলা ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল রাইট ম্যানেজমেন্ট ও সময় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রবর্তনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।  ছাপানো প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কক্ষ অনুযায়ী প্যাকেটজাত করে সিকিউরিটি টেপ লাগিয়ে পরীক্ষা কক্ষে পৌঁছানোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি সুপারিশে সিলেবাস অনুযায়ী বিষয়, অধ্যায় ও প্রশ্নের মানবণ্টন অনুসারে সব বিষয়ের সম্ভাব্য সব ধরনের অন্তত ২০ সেট প্রশ্নপত্রের পাণ্ডুলিপি তৈরির কথা বলা হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ মুদ্রণের উদ্দেশ্যে ২০ সেট থেকে লটারির মাধ্যমে পাঁচ সেট পাণ্ডুলিপি নির্ধারণ করবে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণের পর আগের নিয়মে  তা জেলা ও উপজেলা কেন্দ্রে প্রেরণ করা হবে; পরীক্ষার দিন পূর্বনির্ধারিত সময়ে মুদ্রিত প্রশ্নপত্রের কোন সেটে পরীক্ষা হবে তা-ও লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
টিআইবির প্রতিবেদন অবাস্তব : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনটি অসত্য বলে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনটি অবাস্তব ও অসম্ভব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনে আমরা বিস্মিত হয়েছি। কারণ তারা বলেছে, গত দুই বছর ধরে তারা এ বিষয়ে গবেষণা করেছে; কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার সাথে তারা কোনো আলোচনা করেনি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্যও নেয়া হয়নি বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি দাবি করেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সনদ অর্জন পর্যন্ত পদে পদে অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতির জন্য এক থেকে তিন কোটি টাকা ভুয়া সার্টিফিকেটের জন্য ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ আরো বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে সব তথ্য সংগ্রহ শেষ করে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠান প্রকৃতই সনদ বিক্রি করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ