সিসিনিউজ: জ্বালানি তেলের দাম আবারো বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে লাভজনক এই খাতটি থেকে রাজস্বখাতে অন্তত ১,০০০ কোটি টাকা যোগান দিতে চায় সরকার।
তবে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিমাণ এবং কবে থেকে এটি কার্যকর হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জানা গেছে, সরকারের লক্ষ্য অর্জনে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল থেকে শুল্ক বাবদ ৪০ ডলার আয় করা, বর্তমানে যা ৩২ ডলার। এছাড়া অন্যান্য পরিশোধিত তেল থেকে লিটার প্রতি ০.৪০ ডলার শুল্ক পেতে চায় সরকার।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ২৪০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার পরও শুল্ক বাবদ সরকার প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ২৪০০ কোটি টাকা আদায় করেছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলেন, বিগত অর্থবছরে বিপিসিকে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।
বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বিপিসিকে আরো ১,০০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। এই টাকা অবশ্য বিপিসি শুল্ক বাবদ সরকারকেই দিয়ে দিবে।
সরকার এই বিশাল বোঝা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকতা।
সরকারের পক্ষে এনবিআর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তেলের মূল্য পুনঃনির্ধারন করার জন্য বিপিসি অবহিত করেছে ।
গত ৫ জুন অর্থমন্ত্রী এমএ মুহিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করার পর এনবিআর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান ইউনূসুর রহমান জানান, প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে লিটার প্রতি তাদের আরো দুই টাকা পর্যন্ত লোকসান হবে।
বিপিসি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারকে জ্বালানি তেলে লিটার প্রতি ৭.১৫ টাকা কর পরিশোধ করেছে।
সরকার বিপিসিকে একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে দফায় দফায় জ্বালাতি তেলের দাম বাড়াচ্ছে।
২০১১ সালের মে থেকে ২০১৩ সালের জানুয়ারির মধ্যে ৫ দফায় ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য লিটার প্রতি ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ২৪ টাকা থেকে ৬৮ টাকা করেছে।
এ সময় ৫ দফায় পেট্রোল ও অকটেন লিটার প্রতি ২২ টাকা বেড়েছে। এছাড়া ২০১১ সালে ফার্নেস অয়েল লিটার প্রতি ৩৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২৪ টাকা থেকে ৬০ টাকা করা হয়েছে।
সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নতুন হারে শুল্ক পরিশোধের জন্য বিপিসিকে চিঠি দিয়েছে।
গত ৫ জুন অর্থমন্ত্রী এমএ মুহিত বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, গত ১০ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়লেও সেহারে শুল্ক বাড়ানো হয়নি।
গত ২৯ জুন জাতীয় সংসদে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে, যেখানে ঘাটতি দেখানো হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।