• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

Matir Ghorরইজ উদ্দিন, সিসিনিউজ: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা থেকে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। ৭০’এর দশকে চোখে পরতো গ্রামাঞ্জলের মনোরম ও মনোমুগ্ধকর এই মাটির ঘর। যা বর্তমান ইট সিমেন্টের বানানো ঘরের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পারায় ঐতিহ্যের সেই মাটির ঘর গুলো এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেই দিন হয়তো আর বেশি দূরে নয় যে দিন আগামী প্রজন্মের কাছে এই মাটির ঘর ইতিহাসের পাতায় গল্পে হয়ে বইয়ের শোভাবর্ধণ করবে। প্রাচীনকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলের সর্বত্র মাটির ঘরের ব্যপক প্রচলন ছিল। অল্প খরচে স্বল্প সময়ে মাটির ঘর নির্মাণ করা যেত বলে সে সময়ে গ্রাম গঞ্জে সর্বত্র মাটির ঘরের প্রচলন ছিল ব্যাপক। মাটির ঘর শীত-গরম উভয় মৌসুমেই বেশ আরামদায়ক। সাধারণত বন্যা ভুমিধ্বস বা প্রবল ঝড় না হলে এসব মাটির ঘর শতাধিক বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। অনেক সময় ইচ্ছা করলে এসব মাটির ঘর দোতলা পর্যন্ত করা হয়। এসব দোতলা মাটির ঘর বেশি বড় হয়না। বাড়ির গৃহিনীরা তাদের নরম হাতের কোমল ছোঁয়ায় নিপূনভাবে কাদা দিয়ে লেপে মাটির ঘরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করত। আজও গ্রামাঞ্চলের অনেক মাটির ঘরের এমন দৃশ্য অনেকেরই চোখের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। তবে তা আবার তুলনামূলক অনেক কম। এখন আর আগের মতো মাটির ঘর চোখেই পড়ে না। তবে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে প্রাচীনকালে নির্মিত অনেকের মাটির এখনও অতীতের স্মৃতি ধরে দাড়িয়ে আছে। এদের মধ্যে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের হিন্দুপাড়ার রমেশ চন্দ্র জানান, অনেকেই তাদের বাপ-দাদার আমলে নির্মিত মাটির ঘর গুলো আজও স্মৃতি করে টিকিয়ে রেখেছে।
বর্তমানে মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিয়েছে ইট-সিমেন্ট-রড-বালি দিয়ে তৈরী হয়েছে বড় বড় পাকা ইমারত, অট্টালিকা। মাটির ঘরগুলো বন্যা, ঝড়, ও জলোচ্ছাসের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিশেষ ক্ষতি সাধন হয়। তার উপর আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষ ইট-সিমেন্ট এর বাড়ীঘর তৈরীতে আগ্রহী হচ্ছে। দিন দিন এ আগ্রহ বাড়ছেই। তাইতো মানুষ মাটির ঘর ভেঙ্গে ইট-সিমেন্টের বাড়ী তৈরী করছে। একারণে মাটির ঘর দিন দিন কমছেই। হয়তো সেদিন আর বেশি দূওে নেই যে দিন মানুষের মন থেকে মাটির ঘরের কথাগুলো ভুলেই যাবে। আর আগামী প্রজন্মের কাছে মাটির ঘর রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ