• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

পার্বতীপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে শোকজ

Oniomপার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: পার্বতীপুরে অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসুচী (দ্বিতীয় পর্যায়) বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় গ্রহন করা হয়েছে। এ কর্মসুচীর লোকজন দিয়ে কাবিখা, কাবিটা, টিআর ও ত্রাণ শাখার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোন কোন ইউনিয়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও), ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ পরস্পর বিবাদেও জড়িয়ে পড়েছেন।
এদিকে অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসুচী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘কেন তার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না’ মর্মে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) রাহেনুল ইসলাম।
জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে গত ১৯ এপ্রিল থেকে অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসুচী (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়ে ১৭ জুন শেষ হয়। ৪০ দিনের এ কর্মসুচীর জন্য উপজেলার ১০ ইউনিয়নে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরির ভিত্তিতে এক হাজার ৭২৯ জনকে নিয়োগ করা হয়। প্রতি সপ্তাহের শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পাঁচ দিন ওয়ার্কিং ডে। প্রত্যেক কার্ডধারীর নামে ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়। ব্যাংকে হিসাব নম্বরের বিপরীতে প্রতি বৃহস্পতিবার মজুরি প্রদান করা হয়ে থাকে।
সুত্র জানায়, কাগজে কলমে এক হাজার ৭২৯ কার্ডধারী থাকলেও বাস্তবে কাজ করেছে এক হাজার ৫২৯ জন। গড়ে প্রতি ইউনিয়নে ২০ জন হিসেবে ২০০ জন কার্ডধারী নাম মাত্র মজুর ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প চেয়ারম্যানদের (মেম্বার) নিজের লোকজন ছিল। প্রতিদিন ২০০ জন হিসেবে সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসে এক হাজার জনের মজুরী বাবদ ২ লাখ টাকা ওই সকল ভূয়া কার্ডধারীর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়। এ টাকার মধ্যে ইউনিয়ন প্রতি পিআইও কে দিতে হয় তিন হাজার টাকা হিসেবে ত্রিশ হাজার টাকা। অবশিষ্ট টাকা ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়। এভাবে আট সপ্তাহে (৪০ দিন) ১৬ লাখ টাকা পিআইও, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। এ টাকার মধ্যে পিআইও একাই নিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা বলে সুত্র জানায়।
লুটপাটের এখানেই শেষ নয় ৪০ দিনের কর্মসুচীর লোকজন দিয়ে অধিকাংশ ইউনিয়নে কাবিখা, কাবিটা, টিআর ও ত্রান প্রকল্পের কাজ করানো হয় এবং সেসব প্রকল্প থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা হরিলুট করা হয়। এ কর্মসুচীর লোকজন দিয়ে বিশেষ করে রামপুর, পলাশবাড়ী, হাবড়া, মোস্তফাপুর, হাবড়া ও হরিরামপুর ইউনিয়নে কাবিখা, কাবিটা, টিআর ও ত্রান প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোন কোন ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসুচীর লোকজন দিয়ে কাবিখা, কাবিটা, টিআর ও ত্রান প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে পিআইও, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ বিবাদেও জড়িয়ে পড়েছেন।সুত্রমতে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে এ কর্মসুচীর লোকজন দিয়ে হাবড়া ইউনিয়নের পান বাজার এলাকায় ত্রান শাখার অর্থে বাস্তবায়নাধীন একটি ব্রীজের ডাইভারশন রোডের মাটি কাটার কাজ করার হয়। ৪০ দিনের কর্মসুচীর সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য হালিমা বেগম আপত্তি করলেও পিআইও তা কর্ণপাত করেননি। এতে ওই প্রকল্পের শ্রমিকদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন প্রকল্প চেয়ারম্যান হালিমা বেগম। পরে প্রকল্প চেয়ারম্যান হালিমা বেগমসহ অপর দুটি প্রকল্পের চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে অন্য ওয়ার্ড সদস্যের মাধ্যমে পিআইও ওই তিনটি প্রকল্পের বিল প্রদান করে। পিআইও জাহাঙ্গীর আলমের নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে হাবড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য হালিমা বেগম, জোসনা বেগমসহ পাঁচ ইউপি সদস্য গত ১৪ মে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইউএনও বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবিরকে দায়িত্ব দেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ৮ জুলাই ইউএনও নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই দিনই ইউএনও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে ‘কেন তার বিরুদ্বে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না’ মর্মে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য পত্র প্রদান করেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম সে পত্র গ্রহণ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ