রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা সদর বাজারের চাউল শেড থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল পুলিশ নিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় শনিবার ৩ বস্তা প্রায় ১০ হাজার পলিব্যাগ উদ্ধার করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাজেদুর রহমান। উদ্ধারকৃত পলিথিনগুলো উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে অগ্নি সংযোগ করে ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের দেবী চরণ এলাকার মোহাম্মদ আলীর পুত্র মো. কামরুল ইসলাম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে সদর বাজারে কামরুল ভ্যারাইটি ষ্টোরের অন্তরালে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিব্যাগের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী এ প্রতিবেদককে জানান, শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম থেকে ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালীন সময়ে কামরুল তার দোকান থেকে ওই ব্যাগগুলো চাউল শেডে রেখে সটকে পড়ে।
দশম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্য বিয়ে সম্পন্ন
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শুক্রবার রাতে প্রেম ঘটিত এক শালিস বৈঠকে ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অবশেষে উভয় পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দশম শ্রেণীর ছাত্রী নিশু আক্তার (১৪) বাল্য বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউপি’র পুনকর গ্রামে। ওই এলাকার এরশাদুল হকের স্কুল পড়–য়া কন্যা ও রাজারহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী নিশু আক্তার (১৪) এর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সৈয়দ আলীর পুত্র মো. আদম আলী (২৪)’র দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে আদম আলী পরিবারের সকলের অজান্তে নিশু আক্তারের ঘরে প্রবেশ করলে পার্শ্ববর্তী লোকজন দেখে ফেলে। পরে স্থানীয় লোকজন আদম আলীকে আটক করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হককে অবহিত করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে। এ বিষয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বলেন, খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আটককৃত প্রেমিক আদম আলীকে তাৎক্ষণিক দু’একটি চড়-থাপ্পড় দিলেও সে নিশুকে বিয়ে ছাড়া কিছু বুঝে না। পরে সকলের সম্মতিক্রমে বিয়ে সম্পন্ন হয়। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
৩ ছিনতাইকারী ২ দিনের রিমান্ডে
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক ব্যবসায়ীর মোটর সাইকেল ও ৩০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটককৃত ৩ যুবককে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই আল হেলাল মাহমুদ ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে কুড়িগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বিজ্ঞ বিচারক মোহা. আসাফ-উদ-দৌলা শুনানী শেষে বৃহস্পতিবার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলা দায়েরের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে এজাহার নামীয় বাকী ৪ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই ১৪ ইং রাতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাধীন যতিনের হাট এলাকার জনৈক ব্যবসায়ী মো. হামিদুল ইসলাম রাজারহাট উপজেলা সদর বাজার হয়ে তিস্তার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে পথিমধ্যে ফুলখাঁর চাকলা সংলগ্ন সাধুর বাজার নামক স্থানে পৌঁছুলে পূর্ব থেকেই ওৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীর একটি চক্র তাকে চতুর্দিক থেকে আক্রমন করে গতি রোধ করে। এ সময় তার মোটর সাইকেলসহ সঙ্গে ব্যাগে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে চম্পট দেয়। পরে তার আত্মচিৎকারে পার্শ্ববর্তীরা এগিয়ে এসে মোটর সাইকেলসহ তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে থানা পুলিশের হাতে সোর্পদ করে এবং অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। আটককৃত তিন ছিনতাইকারী হলো-রাজারহাট উপজেলার অর্জ্জুনমিশ্র গ্রামের আলম মিয়ার বখাটে পুত্র আশরাফুল ইসলাম (২৬), এরশাদুল হক (২৩) ও রতিরাম কমলওঝাঁ এলাকার মকবুলের পুত্র আব্দুর রহিম ওরফে রতন (১৯)। এ ঘটনায় রাজারহাট থানায় শুক্রবার রাতে দ্রুত বিচার আইনে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা রুজু করা হয়। যার মামলা নং-০৫, তাং-০৪-০৭-২০১৪ ইং। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই আল হেলাল মাহমুদ এ প্রতিবেদককে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তিন ছিনতাইকারীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদের রিমান্ডে নিয়ে ছিনতাই যাওয়া টাকা এবং সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর অন্যান্য সদস্যদের নাম ঠিকানাসহ পলাতক এজাহার নামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।