সিসিনিউজ: ভারী বর্ষন আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তার নদী বেষ্টিত নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ওই গ্রামগুলোর পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার বানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) স্লুইচ গেট খুলে দিয়েছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, অব্যাহত ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ী ঢলের কারনে ডালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে সোমবার ভোর ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে সকাল ৯টায় ২সেন্টিমিটার কমে ৮সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা ৩টায় ৫সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিস্তা ব্যারাজের সবকটি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে।
ডিমলা উপজেলার খাঁলিশা চাঁপানী ইউনিয়নের ৪নং ওয়াড সদস্য রমজান আলী জানান, তিস্তার পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পশ্চিম বাইশপুকুর, পূর্ব বাইশপুকুর ছোটখাতা গ্রামে নদীর পানি প্রবেশ করায় ওইসব গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে করে গ্রাম গুলোর কোথাও হাটু থেকে কোমড় সমান পানিতে তলিয়ে দিয়েছে। প্লাবিত এলাকার পরিবারগুলো পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে তাদেরকে কলার ভেড়ায় চলাচল কতে হচ্ছে।
তিস্তা বেষ্টিত ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিফন জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কিসামত ছাতনাই চরের প্রায় সারে চার শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও উপজেলার পুর্ব ছাতনাই,টেপাখড়িবাড়ি,খগাখড়িবাড়ি-গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী ,ঝুনাগাছ চাঁপানী ও জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি-শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের পাঁচ সহ¯্রাধীক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, উজানের পাহাড়ী ঢলের কারনে রোববার সন্ধা থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। এতে করে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চড়-খড়িবাড়ি, উত্তর-খড়িবাড়ি ও পুর্ব-খড়িবাড়ি গ্রামের দুই সহস্রাধীক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের ঘর বাড়িতে পানি উঠায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান মুঠো ফোনে জানান, তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে রোববার সন্ধ্যার পর থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। সোমবার ভোর ৬টায় সেখানে বিপদসীমার ১০সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ৮সেন্টিমিটার ও বেলা ১২টায় ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে। বর্তমানে পানি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।