সিসিনিউজ: আসন্ন পবিত্র ঈদুল-ফিতরে ঘরমুখী মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে যাত্রীসেবা দিতে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় সর্বোচ্চ ৮৩ টি কোচ (বগি) মেরামতের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৬১টি ব্রডগেজ (বড়) ও ২২টি মিটারগেজ (ছোট) লাইনের কোচ (ক্যারেজ) রয়েছে। ইতোমধ্যেই ৫৬টি কোচ (বগি) পাকশী ও লালমনিরহাট রেলপথ বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও অবশিষ্ট ২৭টি কোচ আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে রেলপথ বিভাগ হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে নানা সুবিধার জন্য রেল ভ্রমণেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন। ফলে প্রতিবছর ঈদে রেলওয়ের ওপর চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। আর তাই ঈদে বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহন ও অধিকতর যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেন ছাড়াও যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোয় অতিরিক্তি কোচ (বগি) সংযোগের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এবারে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় অতিরিক্ত ৮০টি কোচ (বগি) মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের অতি উৎসাহে লক্ষ্যমাত্রার অধিক ৩টি অর্থাৎ ৮৩টি কোচ (বগি) তৈরি হচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। তবে সময়মত এসব হন্তান্তর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৈয়দপুর কারখানার ওয়ার্ক ম্যানেজার (ডাব্লুএম) মো. কুদরত-ই-খোদা জানান, ঈদে যাত্রীসেবার যে অতিরিক্ত কোচ নির্মাণ হচ্ছে তাতে সীমিত আকারে ওভারটাইমের ব্যবস্থা করা হয়। ওই খাতে সরকারের অতিরিক্ত এক কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার রেকর্ড সংখ্যক কোচ (বগি) তৈরি হয়েছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ঈদে বিভিন্ন ট্রেনে এসব কোচজুড়ে দেয়া হবে। এসব কোচে অতিরিক্ত ৫০ লাখ মানুষকে সেবা দেয়া যাবে বলে জানান তিনি।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) নূর আহাম্মদ হোসেন জানান, মূলত শ্রমিকদের উৎসাহ দেয়া হয় আমাদের এই শ্রমের বিনিময়ে অনেক মানুষ তাদের স্বজনের সাথে ঈদ করবে। কাজেই একটু অতিরিক্ত শ্রম আমরা করতেই পারি। তিনি জানান, ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের সেবার কথা মাথায় রেখে শ্রমিকদের ছুটি বাতিল করা হয়। তাদের নিয়মিত কাজের অতিরিক্ত শ্রমঘন্টা ব্যয়ে এবার ৮৩ কোচ মেরামত হবে, এটাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখতে হবে। তিনি এ জন্য প্রকৌশলী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।