নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে তহিদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ডেকোরেটর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সে জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের হরিশচন্দ্র পাঠ গ্রামের কালুয়া মামুদের ছেলে। শনিবার বিকালে এই ঘটনা ঘটে। তবে নিহতর স্বজনদের অভিযোগ তাকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নীলফামারী জেলা ডেকোরোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন জানান, শনিবার দুপুরে একই গ্রামের সহর উদ্দিনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলামের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ তারের একটি তার ছিড়ে পড়ে। এসময় ছেড়া তারটি পুনরায় সংযোগ দেয়ার জন্য তহিদুলকে ডেকে আনেন হাফিজুল মেম্বার। এক পর্যায়ে তহিদুল ছেড়া তারটি পেচিয়ে বিদ্যুৎতের খুটির কাছা-কাছি গেলে হাফিজুল তার বাড়িতে থাকা ওই লাইনের কাটাউট সংযোগ চালু করে। এতে সাথে সাথে বিদ্যুতায়িত হয়ে মাটিতে লুটে পরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তহিদুলের। এদিকে থানা পুলিশে খবর না দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক কবিরাজকে ম্যানেজ করে ইফতারের নামাজের পরেই তহিদুলের লাশ দাফন করে হাফিজুল মেম্বর।
নিহত তহিদুলের বাবা কালুয়া মামুদ জানান, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। যার জন্য তারা তাড়াতাড়ি করে আমার ছেলের লাশ কবর দিয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’
নীলফামারী ডেকোরেটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তহিদুল যখন বিদ্যুতায়িত হয়ে মাটিতে পড়েছিল তখন পর্যন্ত সে জীবিত ছিল। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে না নিয়ে হাফিজুল মেম্বর ও তার লোকজন তহিদুলের শরীরের আঘাত করায় তার মৃত্যু হয়েছে। তহিদুল বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায়নি তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে অভিযুক্ত হাফিজুল মেম্বারের সাথে যোগযোগ করা জন্য তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
অপর দিকে খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাসুল হক কবিরাজের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মুঠোফোনে (০১৭১৪৬০৫৮৫৮) কল দিলে তিনি রিসিভ করেনি।