সিসিনিউজ: আদর্শের গালে চুলকালি মেখে সহিংসতাই এখন ছাত্ররাজনীতির মূলমন্ত্র। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন হলে তো কথাই নেই। ভাড়াটিয়া কিলার থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অপহরণ, ছিনতাই কোনো কিছুতেই পিছিয়ে নেই এসব ক্ষুদে নেতারা।
অবশ্য জোর করে প্রেম কিংবা বিয়ে করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের কৃতিত্ব সবারই জানা। তবে দাম্পত্য জীবনেরও যে তারা পুরোনো দিনের চর্চা করে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে যশোরে।
সোমবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা (সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী) পরস্পরের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী দুই নেতা হলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার রহমান দিপু ও উপ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মল্লিকা খাতুন ইতি।
ডা. মল্লিকা পাবনার সোহরাব হোসেনের মেয়ে। আর দেলোয়ার হোসেন যশোর সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের নূর-ই-আলমের ছেলে।
থানা সূত্রমতে, ডা. মল্লিকা খাতুন ইতি ছাত্রনেতা দেলোয়ার রহমান দিপুকে তার স্বামী হিসেবে উল্লেখ করে যৌতুক দাবিতে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ এনেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে ওই নেতা ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
পক্ষান্তরে ইতিকে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন ছাত্রলীগ নেতা দিপু। তার অভিযোগ, সাবেক স্ত্রী তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে। তালাক দেয়ার পরে বাড়িতে গিয়ে সহিংস আচরণ করছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, দিপু অভিযোগ করেছেন, দুই বছর আগে ইতির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে ইতির সঙ্গে তার বনিবনা হয়নি। এ নিয়ে কয়েকদফা শালিস বৈঠকেও সমাধান না হওয়ায় প্রায় ৩ মাস আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এখন দিপুর বাড়িতে গিয়ে ডা. ইতি সহিংস আচরণ করছেন এবং তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে।
ডা. ইতির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে দিপু তার ওপর বিরামহীনভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
ওসি আরও জানান, স্বামী-স্ত্রী দুই ছাত্রলীগ নেতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তারা পাওয়ার পর উভয়ের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। উৎসঃ বাংলামেইল২৪