• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কবরেও ঠাঁই মিলছে না ফিলিস্তিনিদের

85275_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় গত ১৪ দিনের ইসরায়েলি হামলায় ৫৬০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন এত এত মৃতদেহ সমাহিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। দিনে দিনে এই সমস্যাটি আরো জটিল হয়ে পড়ছে।

দা ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় ‘In Gaza, burying those killed by Israeli airstrikes is getting more dangerous’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতদেহ সমাধিস্থলে বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এম্বুলেন্স তো দূরের কথা, একটি ভ্যান জোগার করতেই রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে শোকাহত স্বজনদের। গাজা সিটির প্রধান মর্গটিতে লাশ উপচে পড়ছে। লাশের চাপে ফ্রিজগুলোও যেন স্বাভাবিকভাবে সার্ভিস দিতে পারছে না। ফলে মর্গের চারপাশের বাতাস মাংস পঁচা গন্ধে ভারি হয়ে ওঠেছে। স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না গোরস্থানগুলোতেও। আর এ অবস্থায় গোর তৈরির লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই মৃতের শোকার্ত স্বজনরা নিজেরাই এখন কোদাল হাতে কবর খুঁড়তে শুরু করেছেন।

গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার প্রথম দিনগুলোতে লোকজন মৃতদেহগুলো জানাজার জন্য মসজিদে নিয়ে যেত। জানাজা শেষে মরদেহ তাঁবুতে এনেই রাখত তারা। সেখানেই জড়ো হয়ে শোক প্রকাশ করত মৃতের স্বজনরা। পরে কফিনটি পতাকায় জড়িয়ে নিয়ে গোরস্থানের উদ্দেশ্য রওয়ানা হত তারা। সেখানে আবেগতাড়িত ভাষায় সুরা কেরাত পাঠ করতেন আলেমরা।

কোনোরকমে তাড়াহুড়ো করে লাশ দাফন করছে মৃতদের স্বজনরা। তাদের ভয়, আবার কখন গোলা আর ড্রোন বিমানের হামলা শুরু করে ইসরায়েল। সোমবার সকালে গাজার শিজাইয়া জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পরপরই নিজেদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে এক ফিলিস্তিনী পরিবার। এরা হলেন মোয়াতাজ(১৮) ও আহেদ(২৩)। তাদের সঙ্গে রয়েছে প্রতিবেশী আরো তিনজনের মৃতদেহ।

দুই ভাইয়ের লাশ শিফা হাসপাতালের ধূসর আর নিষ্প্রাণ প্রাঙ্গণে এনে রাখা হয়েছে। লাশ দুটির পোশাকের গায়ে এখনো লেগে আছে রক্ত আর ধূলো। তাদের সঙ্গে আছেন পরিবারের কয়েকজন সদস্য। নিজেদের প্রিয় মানুষদের দাফনের জন্য কোনো কাফনের ব্যবস্থা করতে পারেননি তারা। তাই পুরনো কাপড় দিয়ে মৃতদেহ দুটো জড়িয়ে সাদা দুটো বডিব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এখন তাদের কোথায় কবর দেবেন এ নিয়ে চিন্তায় আছেন তারা।

এদিকে মর্গের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোহাম্মদ জিনদেয়া, পেশায় শিক্ষক। তিনি এসেছেন তার ফুফুর লাশ নিয়ে। লাশ পড়ে আছে মর্গের মেঝেতে। ইসরায়েলি বিমান হামলাতেই মারা গেছেন তার ফুফুও। কিন্তু এখন মর্গের ফ্রিজে জায়গা নেই। তাকে প্রশ্ন করা হল, ‘আর কতদিন ইসরায়েলি হামলা চলতে পারে?’ হতাশ কণ্ঠে জিনদেয়া বলেন,‘কত দিন বা কত সপ্তাহ ধরে এ হামলা চলবে তা আমি বলতে পারব না। আমার তো মনে হয় আমাদের সবাইকে হত্যা না করা পর্যন্ত ইসরায়েল থামবে না।’

ফুফুকে কোথায় কবর দেবেন তা নিয়েও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই এই শিক্ষকের।তিনি সাংবাদিকদের বলেন,‘আমরা তো শিজাইয়ায় নিজেদের বাড়ির কাছেই লাশ দাফন করার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তা বোধহয় সম্ভব হবে না। ইসরায়েলিরা এখনও যেভাবে বোমা মারছে!’ তাকে দেখতে এখন খুবই ক্লান্ত মনে হচ্ছিল ।

প্রসঙ্গত, ইসরায়েল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালিয়েছে গাজা উপত্যকার শিজাইয়াতে। বোমা নিক্ষেপের পাশাপাশি ওই এলাকায় হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের স্থল যুদ্ধও চলছে। ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের গতিরোধ করতে তারা স্থল মাইন, ববি ট্রাপ এবং ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

ইতিমধ্যে হাসপাতালের মর্গ থেকে ছয়টি মৃতদেহ সরিয়ে আনা হয়েছে। সেগুলো এক এক করে একটি ভলক্সওয়াগন ভ্যান, একটি ট্যাক্সি এবং ছোট একটি ট্রাকে তোলা হল। ইসলামি নিয়মানুযায়ী নারীদের গোরস্থানে যাওয়ার নিয়ম নেই। তাই নারী স্বজনেরা গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে প্রিয় মানুষদের মুখগুলো শেষবারের মত দেখে নিলেন। সকলের চোখেই তখন অশ্রু। কয়েকজন তো গাড়ির সামনে সংজ্ঞা হারিয়ে লুটিয়ে পড়লেন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। লাশের সঙ্গে তাদেরকেও গাড়িতে তুলে নেয়া হল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে লাশ গোর দেয়ার জন্য মাটি খুঁজে পাওয়া আরো দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

ছয়টি মুর্দা নিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে গাড়ি তিনটি। গাড়ির মধ্যে বসে পরিবারের সদস্যরা সমানে মোবাইলে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, এদের সমাহিত করার মত কোথাও একটু জায়গার খোঁজ পাওয়া যায় কিনা। শেষে গাজা সিটির উত্তর প্রান্তের জাবালিয়া গোরস্তানে এসে উপস্থিত হলেন তারা। গোরস্থানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় তখনও সমানে বোমা ফেলছে ইসরায়েলিরা। তাই মৃতদের পুরুষ স্বজনরা দ্রুত হাতে কবর খুঁড়তে শুরু করলেন। এখানে কিন্তু তারা একা নন। তাদের পাশাপাশি কবর খুঁড়ে চলেছে আরো প্রায় ১২/ ১৩টি দল। তাদেরও যে নিজ নিজ প্রিয়জনকে সমাহিত করতে হবে এই গোরস্থানে।

কবর দেয়ার পর দ্রুত দু হাত তুলে মোনাজাত শেষ করলেন তারা। এরপর কয়েক বালতি পানি ঢাললেন কবরের শুকনো বালিতে। দু টুকরো পিচবোর্ডের গায়ে দুই ভাইয়ের নাম লিখে গেঁথে দেয়া হল ভিজে মাটিতে। আপাতত: এটাই হল অস্থায়ী ফলক- প্রিয়জনের কবরের চিহ্ণ। কিন্তু তারা গোরস্থান থেকে যখন চলে আসছিলেন তখনই দেখা গেল, একটি পিচবোর্ড উঠে এসেছে মাটি থেকে। এটি এখন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে কবরের গায়ে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ