• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

রেহেনা ও মুন্নীর ঈদের আনন্দ নেই

Dinajpur pic 23-07-14মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: সবার ঘরে ঘরে ঈদ আনন্দ থাকলেও মুন্নী ও রেহেনার ঈদ আনন্দ নেই। রোযা নামায নেই। না খেয়ে ধুকে ধুকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। তাদের দেখভাল করার কেউ নেই। রেহেনার একমাত্র পুত্র টনি পাগল মাকে ছেড়ে সরে পড়েছে। মুন্নী ও রেহেনা বাঁচাতে প্রশাসন বা মানবাধিকার কোন সংস্থা এখনও এগিয়ে আসেনি। রেহেনা একজন তরুন আইনজীবি। তার স্বামীর অঢেল জমিজমা, অর্থ সব কিছু থাকার পরেও রেহেনার ভাগ্যে চিকিৎসা জুটছে না।  রেহেনা ও তার বোন মুন্নীর শেষ অবস্থান কোথায় কেউ জানে না। তাদের একমাত্র সম্বল ছিল মা সামসুন নেছা। কিন্তু মাকে হারিয়ে আজ তারা দু’জন অসহায় ও নিঃসঙ্গ।
দিনাজপুর শহরের পাহাড়পুর মহল্লার মসজিদের পিছনে মৃত হাফেজ মোহাম্মদ জয়নুলের ২ কন্যা মুন্নী ও রেহেনা। রেহেনা পড়াশুনা করে আইনজীবি হয়েছিল। তার বিয়ে হয়েছিল শহরের বাহাদুর বাজার মহল্লার আদিল নামে এক যুবকের সাথে। তাদের ঘরে ১টি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। তার নাম টনি। বয়স প্রায় ১৬ বছর। অঢেল সম্পত্তি রেখে আদিল মৃত্যুবরন করে। অল্প বয়সে স্বামী হারিয়ে রেহেনা বাহাদুর বাজারের স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পাহাড়পুরে পিতার বাড়ীতে উঠে। এর পর রেহেনা ও তার বড় বোন মুন্নী পাগল হয়ে যায়।
মা মাগল হয়ে যাওয়ায় রেহেনার একমাত্র পুত্র টনী মাকে ছেড়ে অন্য জগতে চলে যায়। মাদক গ্রহনের অভিযোগে পুলিশ টনিকে গ্রেফতার করে এবং ভ্রাম্যমান আদালত তাকে সাজা প্রদান করে। পিতা আদিলের রেখে যাওয়া জমি পুত্র টনী মা রেহেনার অনুমতি না নিয়েই মায়ের অংশসহ কোটি টাকার সম্পত্তি স্বল্প মূল্যে অনেক বিক্রি করে দেয়। পর্দানশীন মা সামসুন নেছা ২ পাগল মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে তুলে। ২ পাগল কন্যার খাওয়া, দাওয়া, কাপড় চোপড় সবই জোগাড় করতো তার মা। ঘরে ২ যুবতী দুই পাগল মেয়ে তাই কোন পর পুরুষকে বাড়িতে ঢুকতে দিতো না। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস।
গত ৬ জুলাই পাহাড়পুর জামে মসজিদের ইমাম মোঃ হাসান পাড়া-পরশীকে খবর দেয় মসজিদের পিছনের বাড়ির ২ পাগলের মা মরে পচে আছে। পাড়া-পরশীরা গিয়ে দেখে প্রায় ৫/৬ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে এবং পচে শরীরে প্রচুর পোকা ধরেছে। রেহেনার একমাত্র পুত্র টনিকে পাওয়া না যাওয়ায় স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মকবুল হোসেনের মাধ্যমে বিষয়টি কোতয়ালী থানাকে অবগত করলে কোতয়ালী থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল করে দাফনের ব্যবস্থা করে।
লাশ দাফনের পর রেহেনার পুত্র টনি বাড়ীতে এসে তার পাগল মা-খালার দেখভাল করার দায়িত্ব নিলেও ওই দিনই টনি সরে পড়ে।
বর্তমানে পাগল ২ বোন একাই ওই বাড়িতে অবস্থান সরছে। তাদের কোন নিরাপত্তা নেই। প্রতিবেশীরা পাগল ২ বোন রেহেনা ও মুন্নীকে চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতাল অথবা বাড়িতে চিকিৎসা করার জন্য একমাত্র পুত্র টনিকে বার বার তাগাদা দিলেও টনি এক বেলা খাবার পর্যন্ত দেয়নি। প্রতিবেশী নাজমা ও নাজ মাঝে মধ্যে খাবার দেয়।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওসি মোঃ আলতাফ হোসেন জানান, তাদেরকে পাগলা গারদে পাঠাতে অথবা চিকিৎসা সেবা দিতে পুত্র টনির অনুমতি এবং স্থানীয় এমপির ডিও লেটার লাগবে। হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ডিও লেটার দিতে প্রস্তুত কিন্তু ডিও লেটার নিবে কে।
রেহেনার পুত্র টনি শহরে স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে বসবাস করছে। পাগল মা রেহেনা ও খালা মুন্নীকে সুস্থ্য করে তুলতে পিছুটান টনির। কারন তাদের পৈত্রিক ও স্বামীর অনেক সম্পদ আছে। পাগল রেহেনা সুস্থ্য হয়ে উঠলে তার পুত্রের কাছে তার অংশ দাবি করতে পারে। এ কারনে মা সামসুন নেছার মৃত্যুর পর থেকে পাগল রেহেনা ও পাগল মুন্নী একাই ওই বাড়িতে অবস্থান করছে। তাদের চিকিৎসার সুস্থ করে তুলতে পারলে তারা স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ