• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ভারতীয় সংস্কৃতির বাহারে দেশীও সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে

pakhi zama 02হাসান মাহমুদ, লালমনিরহাট: ঈদের বাজারে ঘুরে দেখা যায় ভারতীয় সংস্কৃতির বাহারে দেশীও সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে ।
আর ক’দিন পরেই মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। তাই নিজের পছন্দের কেনাকাটার জন্য ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই ছুটছে হাট-বাজার মার্কেটে। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী, শিশু-কিশোরের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী মার্কেট ও হাটবাজার। চাহিদা মতো পোষাক ক্রয়ের জন্য ক্রেতারা ছুটছে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। ঈদকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোও সাজানো হয়েছে বৈচিত্র সাজে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা সাধারণের সার্বিক নিরাপত্তায় ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্নত রাখতে পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসন।
হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, মার্কেটের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দোকানিরা বললেন, ১৮শত টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা দামের মেয়েদের পোষাকের চাহিদা বেশি। তারা আরো জানান, এবারের ঈদে মেয়েদের সবচেয়ে বেশী যে পোশাক বিক্রয় হচ্ছে তার নাম পাখি ।

Pakhiকে এই পাখি ?
পাখি নিয়ে কী ঘটেনি! আত্মহত্যা থেকে তালাক সবই ঘটেছে। সে সূত্রে অনেকের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন- কি বা কে এই পাখি? আর এ প্রশ্নটির সূত্রপাত ঘটেছে এবারের ঈদে মেয়েদের একটি পোশাককে নিয়ে, যার নাম কিনা ‘পাখি ড্রেস’।
সহজসাপটা উত্তর হলো, ভারতীয় বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’র নায়িকার নামে এ পোশাকের নামকরণ। যার আসল নাম মধুমিতা সরকার।
বিগত বছরগুলোর দিকে নজর দিলে দেখা যাবে- প্রতিবছরই জনপ্রিয় কোনো সিনেমা অথবা সিরিয়ালের নায়ক বা নায়িকার নামে বড় উৎসবগুলোতে ড্রেস বের হয়। এসব পোশাক খুব সহজেই আকৃষ্টও করে ক্রেতাদের। গতবছর ঝড় তুলেছিল স্টার জলসার আরেক সিরিয়াল ‘মা’ এর ঝিলিক ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র আশিকি টু। আর এবারের রোজার ঈদকে সামনে রেখে তাই বাজারে এসেছে ‘পাখি’।
বাংলাদেশের তরুণীরা ‘পাখি’র পোশাককে অনুসরণ করে কিনছে পাখি ড্রেস। অন্যদিকে, ‘বোঝেনা সে বোঝে না’ সিরিয়ালটি নিজেও অনুকরণ। এটি হিন্দি চ্যানেল স্টার প্লাসের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘ইস পেয়ার কো কেয়া নাম দু’ এর বাংলা সংস্করণ। একসময় দারুণ সাড়া ফেলেছিল ‘ইস পেয়ার কো কেয়া নাম দু’ সিরিয়ালটির নায়িকা ‘খুশি’। ‘পাখি’ হলো খুশিরই ।

বোঝে না সে বোঝে না
“বোঝে না সে বোঝে না” এটি একটি ভারতীয় স্টার জলসা চ্যানেলের সিরিয়ালের নাম এই নামটি সবার পরিচিত কেবল পরিচিতই নয় আমাদের দেশের শহর ও গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে মা,বোন,চাচী,ভাবী,শিশু-কিশোর এমন কি বুড়ো-বুড়িসহ সকল বয়সের মানুষের মুখে শোনা যায় ও তাদের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি বলা চলে হৃদয়ের মাঝে অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে। সারাদিন যত ব্যস্ততা থাক না কেন সূর্যী মামা অস্ত গেলেই টিভির সামনে বসে পড়েন আমাদের দেশের মা, বোনরা ভারতীয় সিরিয়াল দেখতে। অনেক মাদক্তাসক্তের মানুষের ভয়াবহ গল্প শুনেছি কিন্তু এরকম নাটকের প্রতি নেশা আমাদের প্রত্যেকের অজানাও নয়। প্রতিদিন বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে আমাদের দেশের পরিবারের মহিলারা অবশেষে(মা, আঁচল, সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে, টাপুর-টুপুর, জল নুপুর, বোঝে না সে বোঝে না ইত্যাদি) এসব নামের সিরিয়াল দেখতে সকল বাধা অপেক্ষা করে ভীড় জমায় টিভির সামনে । তাও যদি বাংলাদেশি সংস্কৃতির নাটক হত কোন কথাই ছিলো না। এসব ভারতীয় সিরিয়ালের প্রতি আমাদের দেশের মহিলারা বেশ আসক্ত।
এসব সিরিয়াল বা নাটকের ঘটনা, অবস্থান, ক্রাইম, আইনি ব্যবস্থা, প্রেম-ভালোবাসা সবই কাল্পনিক যা নাটক শুরুর আগে টিভির পর্দায় দেখতে পাওয়া যায়। আমদের দেশের পরিবারের মহিলারা এসব কল্পনাকে বাস্তবে রুপ দেয়। আমাদের দেশের নারীরা যে কতটা এগিয়ে বর্তমানে তা চোখে পড়ার মত। পুরুষা অনেকে হয়তো ব্যস্ততার কারনে নয়তো ইচ্ছাকৃত ভাবে এসব নাটকে তাদের আগ্রহ নেই। কিন্তু নাটক না দেখলেও তার পুর্নপ্রচার দেখতে পুরুষের আর বাকী থাকে না এমনকি বিদ্যুৎ এর ব্যাপরে কোন ভোগান্তি পোহাতে হয় না, কারন এসব নাটক দেখে আমাদের পরিবারের মেয়ে হোক, মহিলা হোক আর যে বয়সরই হোক না কেন তারা প্রতিনিয়ত এসব নাটকের চরিত্র গুলো ভালো ভাবে ফুটে তোলা বা চর্চা করে থাকেন। বাংলাদেশী সংস্কৃতি ডুবিয়ে ভারতী সংস্কৃতির ব্যবহার করতে আমাদের দেশের মহিলারা অনেকটা ব্যাতিব্যস্ত।

“পাখি” নিয়ে রমরমা ব্যবসা
এখন শহর বলেন আর গ্রাম বলেন এসব মার্কেট গুলোর ফ্যাশন হাউজ ও গার্মেন্ট’স এর প্রধান ও আকর্ষনীয় বিশেষ করে মেয়েদের জামা ভারতীয় (স্টার জলসা চ্যানেলের) সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের পোশাকে সাজানো। বর্তমানে ইদের বাজারে মেয়েদের যে জামাটি বেশী চলছে সেটি হল পাখি জামা । এই পাখি জামাটি হচ্ছে “বোঝে না সে বোঝে না” নাটকের অভিনেত্রী পাখির পোশাক। তাতেই হয়েছে আর কি নাম হয়ে গেল পাখি জামা। এই পাখি জামা নিয়ে বর্তমান আধুনিক মেয়েদের মাঝে কল্পনা-জল্পনার শেষ নেই এমনকি মেয়েদের মাঝে চ্যালেঞ্চ হয়ে দাড়িয়েছে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ ও গার্মেন্ট’স এর দোকানে গেলেই আপনার দৃষ্টি পড়বে “বোঝে না সে বোঝে না” ভারতীয় সিরিয়ালের অভিনেত্রী পাখি নামের জমকালো-চোখধাধানো পাখি জামার সমাহার। কি এমন আছে এতে তাই সকল বয়সের মেয়েদের এবার ইদে এই জামাটাই চাই। আসলে নাটকটির নাম “বোঝে না সে বোঝে না” না কি আমাদের দেশের মেয়েরাই বোঝে না। দাম যাই হোক না কেন, তাতে কোন নজর নেই আছে না বাবা ও বড় ভাই পাখি জামা চাই চাই আর কোন কথা নাই।
আর এই সুযোগে চড়া দামে জামা বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে অনেক টাকা। জামার নামটিও যেমন পাখি টাকাও খরচ করছে পাখির মত। এই জামাটি কিনতে টাকাকে যতদুর উড়তে হয় উড়াচ্ছে আমাদের অবুঝ মেয়েরা। মেয়েরাও নাকি পারে উন্নয়ন করতে পারে তবে কি তাহলে এটাই উন্নয়নের প্রথম ধাপ এভাবে বিলাসীতা করে টাকা উড়িয়ে ভারতী সংস্কৃতির লেজ ধরে, দেশীও সংস্কৃতির মাথা কেটে। ধারাবাহিক ভাবে আসতে থাকা এরকম ভারতী সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের নামে মেয়েদের জামা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে ডুবিয়ে পোশাক শিল্পে অনেকটা প্রভাব বিস্তার করছে। গত বছর সবার মুখে মুখে ছিল স্টার জলসার মা নাটকের ঝিলিক, পরী, ফুল্কি নামের এসব জামা।
বিজিএ টেকন্যালজি অব ইউনির্ভাসিটির ফ্যাশন ডিজাইনারের ছাত্র  ও হাতীবান্ধার বাসিন্দা আবু আইয়ুব আনসারী মিশুকের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিক কে জানান, এভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে আমাদের দেশীয় ডিজাইনারদের তৈরী পোশাকের উপর অনেকটা প্রভাব পড়বে এবং পড়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশীয় বুটিক’স যে গুলোতে আমাদের দেশের ডিজাইনারদের তৈরী পোশাক বিক্রি করা হয় সে সব বুটিক’স গুলো এক সময় আথির্ক ভাবে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা এভাবে একের পর এক ভারতীয় ডিজাইনের পোশাক আমাদের দেশে আসতে থাকলে তখন ক্রেতাদের দেশীয় ডিজাইনারদের তৈরী পোশাক ক্রয়ে চাহিদা হ্রাস পাবে এবং দেশীয় ডিজাইনরা অকেটা হুমকির মুখে পড়বে।
এভাবে চলতে থাকলে কি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি আদৌও টিকে থাকতে পারবে  কি?  না ভারতীয় সংস্কৃতির স্রোতে তলিয়ে যাবে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ