সিসি ডেস্ক: সারাদেশে বাড়িওয়ালাদের জন্য চলতি জুলাই থেকে বাড়িভাড়া ব্যাংকে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করে একটি পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এক্ষেত্রে পূর্ব-ঘোষণা অনুযায়ী বাড়ি মালিকের পৃথক ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে না।
কিন্তু এক বা একাধিক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে বাড়িভাড়া বাবদ মাসিক সর্বমোট ২৫ হাজার টাকার বেশি পেলেই তা বাড়ি মালিককের নামে যেকোন ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।
একইসঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাড়ি বা দোকান ভাড়া অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে। এতে বাড়িওয়ালা কোন প্রকার ব্যর্থতার পরিচয় দিলে তার কাছে প্রাপ্য মোট আয়করের ৫০ শতাংশ বা নূণ্যতম ৫ হাজার টাকা জরিমানা করবে কর প্রশাসন।
এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করে মঙ্গলবার এ বিষয়ে সরকারের দিক-নির্দেশনা পরিপত্র আকারে জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন বিধান অনুযায়ী- বাড়িওয়ালা কিভাবে ভাড়া আদায় ও ব্যাংকে জামা করবেন সে বিষয়ে একটি দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাড়ি মালিককের নামে যেকোন ব্যাংক একাউন্ট বা হিসাবে ভাড়ার টাকা জমা রাখা যাবে। বাড়ির মালিক (ব্যাক্তি, ফার্ম, কোম্পানি বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান) এই বিধান না মানলে তার গৃহ সম্পত্তি বাবদ অর্জিত আয়ের উপর প্রযোজ্য আয়করের ৫০ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা বাধ্যতামূলকভাবে জরিমানা করা হবে। তবে করদাতাকে জরিমানার করার আগে অবশ্যই নোটিশ করবে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তা।
এছাড়া কোন করদাতার ব্যবসায় আয় থাকলে, তাকে অবশ্যই ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা দোকান ভাড়া বাবদ প্রদান করা অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এমন নিয়ম না মানলে বাড়ি বা দোকান ভাড়া হিসেবে পরিশোধিত অর্থ তার ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে বিবেচিত হবে না।
এবং তার আয় হিসেবে বিবেচনাপূর্বক পরিশোধিত ভাড়ার উপর আয়কর পরিশোধ করতে হবে। পরিপত্রে বাড়িভাড়া বলতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, র্ফাম, প্রতিষ্ঠানের মাসিক ভাড়া বাবদ আয় বোঝানো হয়েছে।
পরিপত্রে আছে, বাণিজ্যিক বা আবাসিকভাবে যেকোন উদ্দেশ্যে ব্যবহƒত গৃহ সম্পত্তির মালিক বা দখলে থাকা করদাতাকে এই বিধান মানতে হবে। মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি বাড়িভাড়া পেলে বাড়ি মালিককে একটি রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে।
এই রেজিস্টারে সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়াদের তথ্য এবং ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে। আয়কর রির্টাণ দাখিলের সময় বাড়িভাড়া সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব বিবরণীর কপি দাখিল করতে হবে।
এক্ষেত্রে যৌথ মালিকানায় একাধিক ব্যাক্তি বাড়ির মালিক হলে এবং তাদের ভাড়ার অংশ মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করতে হবে। ভাড়ার পরিমাণ নির্বেশেষে ভাড়াটিয়ারা চেকের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করবেন।
তবে ভাড়াটিয়ার ব্যাংক হিসাব না থাকলে বাড়ি মালিকের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে ভাড়ার টাকা জমা করতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে কোন ভাড়াটিয়া নগদে ভাড়া পরিশোধ করলে, বাড়ির মালিক নিজের ব্যাংক হিসাবে এই ভাড়া জমা দেবেন।
পরিপত্রে আরও থাকছে, এক বা একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, ঘর বা ঘরের অংশ ভাড়া দিলেই তা গৃহ সম্পত্তি খাতের আয় হিসেবে বিবেচিত। কোন করদাতা প্রকৃত ভাড়া আয় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না করলে প্রচলিত নিয়মে উপকর কমিশনার আয়কর অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করে গৃহ সম্পত্তি হতে আয় নির্ধারণ করতে পারবেন।