অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: চলতি (২০১৪-১৫) অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গভর্নর ড. আতিউর রহমান মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।
এসময় গর্ভনর বলেন, ‘এই নতুন মুদ্রানীতি মুদ্রা ও পুঁজিবাজারে স¦স্তিকর স্থিতিশীলতা বজায় রেখে এবং মূল্যস্ফীতি সহনীয় মাত্রায় স্থিতিশীল রেখে দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও উৎসাহ যোগানে অবদান রাখবে। এবারের মুদ্রানীতির ভঙ্গিটিও হবে বিগত ষান্মাসিকের মুদ্রানীতির মতোই সতর্ক ও বিনিয়োগ-বান্ধব।’
১৪ এর মে নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণের মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ জানিয়ে আতিউর রহমান বলেন, ‘গ্রাহক পর্যায়ে টাকায় অভ্যন্তরীণ সুদহার আমানত ও ঋণ উভয় দিকেই নিম্নগামী রয়েছে। তবে, আমানতের সুদহার হ্রাসের তুলনায় ঋণের সুদহার হ্রাস মন্থরতর হওয়ায় এই দুই সুদহারের মধ্যে ব্যবধান অর্থাৎ স্প্রেড কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত এই স্প্রেড মনিটর করছে এবং কি করে তা আরো কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয়ে জানুয়ারি ২০১৪ এর মুদ্রানীতি ঘোষণাপত্রের ৫.৮-৬.১ শতাংশ প্রক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবেই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক প্রাক্কলন দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
গর্ভনর আরো বলেন, ‘অর্থবছর ১৪ এর জন্য মুদ্রানীতি প্রোগ্রামের কার্যকর প্রয়োগের সূত্রে গড় বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি জুন ২০১৪ নাগাদ ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৭ দশমিক শূন্য শূন্য শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি দাঁড়ালেও নিম্নগামী রয়েছে এবং পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির অনেকটা কম ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ মাত্রা থেকে এই নিম্নগামীতা আরো স্পষ্ট লক্ষ্যণীয়।’
এসময় পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর।
তিনি বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের ২৫ শতাংশের কম বিনিয়োগ রয়েছে তাদের বিনিয়োগে উৎসাহী করা হবে। আর এবারের মুদ্রানীতি বিগত মুদ্রানীতির মতই বিনিয়োগবান্ধব।’
মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর ও উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।