সিসি নিউজ: টেলিভিশনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে তসলিমা নাসরিনের লেখা একটি স্ট্যাটাস নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তসলিমা লিখেছেন, ”কোরবানি ঈদের সময় গরু জবাই দেখতে দেখতে অথবা গরু জবাই করতে করতেই মুসলমানদের গলা কাটার অভ্যেসটা হয়েছে। আর এ কারনেই মানুষের গলা কাটাটা মুসলমানরা যত ভালো পারে, অন্যরা তত ভালো পারে না।”
রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঘটনা ঘটার ১ ঘণ্টার মধ্যে তসলিমা নাসরিনের এমন মন্তব্যে পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি তার ফেসবুক ‘বন্ধুরা’। এসবের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য ছিলো চোখে দেখার মত।
কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো
কাজী তানজিদুর রহমান অনিক তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, “তসলিমা নাসরিন কখনোই গরুর মাংস খান নাই, উনি কখনোই KFC তে যান নাই। এমনকি উনি গাছ থেকে ফলও ছিড়ে খান না। উনি সবসময় গাছের তলায় বসে থাকেন আর যখনই কোনো ফল পেকে টুপ করে পড়ে তখনই তিনি তা খপ করে ধরে গিলে ফেলেন। আর হ্যা , উনি যে জুতাটি পড়েন তা আসলে গরুর চামড়ার তৈরি নয়, সেটা আসলে তালপাতা দিয়ে তৈরি।”
শাহাদাত হোসাইন রনির তার স্ট্যাটাসে বলেন, “প্রসঙ্গটা যখন গলাকাটা নিয়ে, তখন এতে কেবল মুসলমানদেরকে দায়ী করা কতখানি যৌক্তিক? আপনি হয়তো মুসলমান জঙ্গি গোষ্ঠীদের গলা কাটার ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছেন। আপনার মতো আমি বা আমরাও এইসব গলা কাটা চর্চাকে ঘৃণা করি। যেমন ঘৃণা করি গুলি করাকে, সাম্রাজ্যবাদকে, জীবাণু অস্ত্রের প্রয়োগকে। এগুলোর যন্ত্রণাটা দীর্ঘমেয়াদী এবং সম্ভবত মৃত্যুর থেকে কম নয়।”
সুমন তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, “একটি পোস্টে বলেছিলেন আপনার মাও নাকি খুব ধার্মিক মুসলমান। তিনিও কি গলা কাটায় উস্তাদ! শেইম অন ইউ তসলিমা…।”
আশরাফুল ইসলাম তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, “আপু তেল মারামারি কইরেন না, যা বুঝেন না তা নিয়া চুপ থাইকেন। সবার সম্পর্কে জানা আছে।”
শেখ আক্তারুল হক তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, “তুমি ইসলাম বিদ্বেষী কথা ছাড়া আর কিছুই জানো না।”
আর প্রাণি হত্যাকে বিভিন্ন ধর্মেই উৎসাহিত করা হয়েছে। কোথাও কোরবানী নামে, কোথাও বলি, কোথাও উৎসর্গ নামে। সুতরাং কম-বেশি সবাই গরু বা প্রাণির গলা কাটায় বা দেখায় অভ্যস্ত।
বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে চ্যানেল আই’র হজ্ব কাফেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। উৎসঃ পরিবর্তন