বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: বীরগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার মানববন্ধন কর্মসুচী পালন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।
উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে মরিচা ইউনিয়নের আমিনা করিম মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ্ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী মাহামুদা আক্তারকে জোর পূর্বক ধর্ষনের প্রতিবাদে ও শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র রায়ের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য টংকনাথ রায়, দুলাল সরকার মনছুর আলী, নুরুল ইসলাম ও প্রভাষক রেজাউল ইসলামসহ স্থানীয় সাধারন মানুষ। তারা অভিযোগ করেন এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রতিবাদকারীদেরকে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন রকমের হুমকী প্রদান করছে উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালীরা । বক্তারা সকল বাধা উপেক্ষা করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ন্যায় বিচারের দাবী জানান। বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণী শিক্ষার্থী সমাপ্তি রানী রায় ও ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী সেতু রানী রায় শিক্ষক রনজিৎচন্দ্র রায়ের অপসারনসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানান।
উল্লেখ্য গত ১০ জুলাই অভিযুক্ত শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র রায় সাজেশন দেওয়ার কথা বলে ৮ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী আওলাকুড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল্লার কন্যা মাহমুদা আক্তারকে বিদ্যালয় থেকে ১৪ কিলোমিটার দুরে পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভোগডমা গ্রামের এক বাড়িতে আটকিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। ধর্ষনের ঘটনা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের কাছ মৌখিক অভিযোগ করে। তিনি বিচারের আশ্বাস দিলেও কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করেননি। নিরুপায় মাহামুদা গত ১৮ আগষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। গত ২৩আগষ্ট থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি নিরুপায় হয়ে ছাত্রীর মা মতিজা বেওয় বাদী হয়ে ২৪আগষ্ট দিনাজপুর জেলা নারী ও শিশু নর্যাতন দমন বিশেষ আদালতে ৭/৯(১)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করে।
মানববন্ধনের এক পয্যায়ে কিছু লোক স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করলে সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল মনজুর ও থানার ওসি (প্রশাসন) কেএম শওকত হোসেন একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ছাত্রীদের সান্তনা দেন।