সিসি ডেস্ক: সত্যিকারের বিরোধী দল হতে এরশাদ সময় বুঝে মন্ত্রিসভা ছাড়তে চান। তবে মন্ত্রীরা পদত্যাগে রাজি নন।এরশাদ রোববার বলেন, সময় বুঝে সরকার থেকে বেরিয়ে আসবে তার দল। তিনি বলেন, বিরোধী দলে থেকে সরকারে থাকা উচিত নয়। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিজেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এরশাদের জন্য দরজা খোলা আছে। চাইলে তিনি সরকার থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেন। তবে সরকারে থেকে সরকারের সমালোচনা করা ঠিক নয়।আওয়ামী লীগের আগের দুই শাসনামলেও মন্ত্রিসভায় শরিকানা ছিল এরশাদের জাতীয় পার্টির। তখন প্রায়ই পদত্যাগের কথা বললেও, মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা মন্ত্রিসভায় ছিলেন। এরশাদের নির্দেশের পরও ২০০০ সালে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেননি। বরং মন্ত্রিত্ব রক্ষায় দল ছেড়েছিলেন।
৩১ আগস্ট সংসদীয় দলের সভায় বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের উপস্থিতিতে এরশাদ ফের বলেন, প্রকৃত বিরোধী দল হতে সরকারে থাকা উচিত নয়। একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এরশাদ সাহেব নিজেও তো মন্ত্রী। তিনি পদত্যাগ না করলে আমরা কেন পদত্যাগ করব?’
পদত্যাগের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনাও হয়নি।’ তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? তা আগে বলতে হবে।’
জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, সরকার ত্যাগের সিদ্ধান্ত সংসদীয় দলে নয়, দলের কাউন্সিলে কিংবা প্রেসিডিয়ামের সভায় হবে। সংসদীয় দল এমন মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তিনি জানান, আগামী মার্চে দলের কাউন্সিল হবে। কাউন্সিলরদের মতামতে সিদ্ধান্ত হবে দল সরকারে থাকবে কী থাকবে না।
এরশাদের অতি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াও পদত্যাগের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। উৎসঃ সমকাল