ঢাকা: সংসদ লবিতে তার সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ানো বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে এবার একহাত নিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। তিনি তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধী ও মশিউর রহমান রাঙ্গাকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তাদের স্থান জাতীয় পার্টিতে নেই।
শুক্রবার বিকালে কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাপা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতায় এ কথা বলেন বাবলু। দলের চেয়ারম্যান এরশাদের বিরুদ্ধে রাঙ্গা ও তাজুলের বিরূপ মন্তব্য এবং মহাসচিবের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে এ সমাবেশ করা হয়।
বুধবার মসিউর ও তাজুলকে দলের সভাপতিমণ্ডলী থেকে অব্যাহতি দেন এরশাদ। একই সঙ্গে এ দুই নেতার নির্বাচনী এলাকা কুড়িগ্রাম ও রংপুরের জেলা-মহানগর কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দলের চেয়ারম্যান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য এবং মহাসচিবের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান রাঙ্গা ও তাজুল।
বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনের মাগরিবের বিরতির সময় সংসদ লবিতে বাবলুর সঙ্গে তাজুল ও রাঙ্গার প্রায় হাতাহাতির উপক্রম হয়েছিল। দলের প্রেসিডিয়াম থেকে তাদের অব্যাহতিসহ নানা বিষয়ে বাবলুকে দোষারোপ করে তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই দুই নেতা।
সমাবেশে বাবলু অভিযোগ করেন, “তারা (তাজুল-রাঙ্গা) বিএনপি-জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধবিরোধী নেতৃত্বকে তাদের জন্য হুমকি মনে করছেন। এ জন্য তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।” তিনি বলেন, “যারা যুদ্ধাপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারী, তারা জাতীয় পার্টির কেউ নন। তারা বিএনপি-জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের দালাল।তাদের স্থান জাতীয় পার্টিতে নেই।”
জাপাকে ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে দলটির মহাসচিব বলেন, “যারা এই ষড়যন্ত্র করছেন, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।”
জাপার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া রাঙ্গা ও তাজুলকে উইপোকা আখ্যায়িত করে বলেন, “উইপোকার পাখা গজায় মরিবার তরে। এই দুই উইপোকা ঘর থেকে বের হলে তাদের প্রতিহত করা হবে। এলাকায় গেলেও তাদের প্রতিহত করা হবে।”
রেজাঊল বলেন, “এই দুই তেলাপোকা এবং এর বাইরে যারা আছে, তাদের হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি চলবে। এর বাইরে কোনো বিকল্প নেতৃত্ব সৃষ্টি হতে দেব না। কেউ বিকল্প নেতৃত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে প্রতিহত করা হবে।”
জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম নুরু, বাহাউদ্দিন বাবুল, জহিরুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ।