সিসি নিউজ: প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তীব্র সংকটের কারনে কোচ মেরামতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ফলে আগামি কোরবানির ঈদে যাত্রীসেবা দিতে কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র মতে, গত ঈদের ধারাবাহিকতায় আসছে কোরবানি ঈদে ৭০টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সৈয়দপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওইসব কোচ মেরামতের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ পড়েছে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অর্থ সংকটে। রেলওয়ে কারখানার মালামাল সরবরাহের দায়িত্ব রেলওয়ে সরঞ্জাম দফতরের একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের রেলওয়ে সরঞ্জামের প্রধান কার্যালয় থেকে মালামাল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু তা নিয়মিত নয়। এবারে সৈয়দপুর রেলওয়ে সরঞ্জাম দফতরে মালামাল মজুদের পরিমাণ কমে গেছে।
ওই সূত্র মতে, বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ (বগি) মেরামতের সরঞ্জাম এমএস শিট, ট্রেনের মেঝের কাজে ব্যবহৃত ফ্লোরিং কম্পোজিশন, ব্র্রেকবিম, ঢালাই সরঞ্জাম ইত্যাদির সংকট চলছে। ফলে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের পুরো কর্মঘন্টার কাজ করতে পারছেন না। তাছাড়া চলতি অর্থবছরের বরাদ্দকৃত অর্থ মেলেনি অদ্যাবধি। ফলে তীব্র অর্থ সংকটে পড়ে রেলওয়ে কারখানায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে জরুরি চাহিদা মোকাবিলায় খোলাবাজার (লোকাল পার্চেজ) থেকেও কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশ কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
কাঁচামাল সংকট ও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় আগামী ঈদে ৭০টি কোচের মেরামতের লক্ষ্যমাত্রার ৫০ ভাগ কোচ মেরামত সম্ভব হবে বলে মনে করছেন রেলওয়ে শ্রমিকলীগ সৈয়দপুর কারখানা শাখার সাধারন সম্পাদক মোখছেদুল মোমিন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্য ব্যবস্থাপক (ডাব্লু এম) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খোদা জানান, ঈদে অতিরিক্ত কোচ মেরামত হওয়া ১৮টি কোচ ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও কিছু কোচ মেরামত হতে পারে। কাঁচামাল ও বাজেটের কারণেই কোচ মেরামত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কাঁচামাল ও অর্থ সংকটের কথা স্বীকার করেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. নূর আহাম্মদ হোসেন। তিনি জানান, নতুন অর্থবছরের টাকা জুলাইয়ের শেষ নাগাদ কারখানার অনুকূলে ছাড় হওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত ওই অর্থ না পাওয়ায় কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।