• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে নতুন হাতিয়ার

imagesআন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানুষ হাসপাতালে যায় শরীরের রোগ সারাতে। সেখানে গিয়েই যদি নতুন জীবাণু শরীরে ঢোকে এবং কোনো ওষুধ কাজে না লাগে তখন কী করা যায়! এমন মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া খতম করতে নতুন এক প্রক্রিয়ার পথে এগোচ্ছেন জার্মানির বিজ্ঞানীরা।
অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ যেসব জীবাণুর ক্ষতি করতে পারে না, হাসপাতালে সেগুলো বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবাণু কোথায় নেই! বিশেষ করে ঠিকমতো হাত না ধুলে সেগুলো আরো ছড়িয়ে পড়ে। শুধু জার্মানিতেই বছরে এমন রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার কারণে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।
ডুসেলডর্ফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাইকে ব্র্যোৎস-ওস্টারহেল্ট বলেন, ‘রেজিস্ট্যান্ট বা প্রতিরোধক বেড়েই চলেছে। এমন মাল্টি-রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়াকে আমরা এমআরএসএ নামে চিনি। এরা খুবই বিপজ্জনক ও শক্তিশালী এবং বিশেষ করে হাসপাতালের মাধ্যমে চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’
এক গবেষক দল সম্প্রতি এমন এক নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের কাজের বিশ্লেষণ করেছে, যা এমনকি মাল্টি-রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলতে পারে। আডেপ নামের এই প্রাকৃতিক ছোট আকারের প্রোটিন মলিকিউল অনেক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।
ড. সাস বলেন, আডেপ এক প্রাকৃতিক উপাদান, যা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি। এগুলো আবার উৎসের আশপাশে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে।
গবেষক দল তাই এ অ্যান্টিবায়োটিকের কার্য-প্রক্রিয়া খুঁটিয়ে দেখছেন। প্রথমেই জানা গেছে, আডেপ ব্যাকটেরিয়ার কোষের মধ্যে এমন একটি প্রোটিন ধ্বংস করে দেয়, যা কোষের বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
ড. সাস বলেন, ‘এখানে যেমনটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের প্রোটিন সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কোষ-বিভাজন স্তরে, অর্থাৎ মাঝখানে থাকে। আমরা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে আডেপ ঢুকিয়ে দিই। ফলে বংশবৃদ্ধির প্রোটিন আর সেই স্তরে থাকতে পারে না। তখন কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, কোষ মরে যায়।’
বিশেষ এই প্রোটিনের নাম ক্লিপ-পি। সুস্থ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সেটি সহায়ক প্রোটিনের সঙ্গে মিলে ত্রুটিপূর্ণ প্রোটিন রিসাইকেল করে। খারাপ প্রোটিনগুলো টুকরো করে ফেলা হয়। এই রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে কোষের মধ্যে বেশি বর্জ্য প্রোটিন তৈরি হতে পারে না।
এই আডেপ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ঢোকালে সেটি ক্লিপ-পির সঙ্গে জুড়ে যায়, তার আকারও বদলে যায়।
অধ্যাপক ব্র্যোৎস-ওস্টারহেল্ট বলেন, আডেপ এমন অনেক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়াকে কাবু করে, যারা কান, ফুসফুস বা হৃদযন্ত্রের পেশির ক্ষতি করে। ভবিষ্যতেও যাতে আডেপ নির্ভরযোগ্যভাবে বিপজ্জনক জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে নতুন রেজিস্ট্যান্ট তৈরি বন্ধ করতে হবে। অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে তা মেশালে চলবে না।
অধ্যাপক ব্র্যোৎস-ওস্টারহেল্ট বলেন, পশুপাখির ওপর আরো পরীক্ষা চালাতে হবে। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফল হলে তখনই এডিইপি ওষুধ হিসেবে বাজারে আনার অনুমতি পাওয়া যাবে। সূত্র : ডয়চে ভেলে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ