• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

মওদুদের বই নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড়

BNP Flagসিসি নিউজ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা বই নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দলের ভেতর থেকেই তার এ বই নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন ডিগবাজি, আদর্শহীন ও দলছুট নেতার বইয়ে বিএনপির কিছু যায় আসে না। সরকারকে খুশি করতেই মওদুদ এ ধরনের বই লিখেছেন। এ ছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনও মওদুদ আহমদের সমালোচনা করেছেন। এদিকে বইয়ে সত্য উদ্ঘাটনের জন্য মওদুদ আহমদকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এ সম্পর্কে বলেন, এতদিন ধরে আওয়ামী লীগ বিএনপি সম্পর্কে যে অভিযোগ করে আসছে মওদুদের বইয়ে সেই সত্য স্বীকার করে নেয়া হয়েছে।

অবশ্য বিএনপি নেতাদের সমালোচনার জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, তাঁর লেখা এ বই দলের বিরুদ্ধে নয়। দলের সংশোধনীর জন্য লেখা হয়েছে। আশা করি সব ভুলত্রুটি শুধরে নিলে পরবর্তীকালে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারবে। বইটি বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্য। এ বইয়ের বিষয়বস্তু ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে। বইয়ে দেখানো হয়েছে মঈনউদ্দিন, ফখরুদ্দীন সরকার কিভাবে বিএনপির ওপর নির্যাতন করেছে। তিনি এও দাবী করেন দলীয় অভিব্যক্তি থেকে এ ধরনের বই লেখেননি। বইয়ে যেসব অভিব্যক্তি তুলে ধরা হয়েছে সবই তার ব্যক্তিগত অভিমত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে এ বই লিখেছেন।

গত শনিবার সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যাবিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা বাংলাদেশ ইমারজেন্সি এ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ : ২০০৭-২০০৮ শিরোনামে বই প্রকাশিত হয়। বইয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উল্লেখ করেন জামায়াত, হাওয়া ভবন, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতিই বিএনপির পরাজয়ের অন্যতম কারণ। খালেদা জিয়ার কাছে ওই সময় তার দু’সন্তান তারেক রহমান ও কোকোর ভাগ্য ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত ছাড়া তিনি কোন প্রকার আলোচনায় যেতে রাজি ছিলেন না। নানা চাপেও তিনি তাদের মুক্তির বিষয়ে অনড় ছিলেন। সে সময়ে দেশের মানুষের নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন কিংবা একজন রাজনীতিবিদের চেয়েও মা হিসেবে দুই সন্তানের মুক্তির বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি উল্লেখ করেন অতিরিক্ত জামায়াতপ্রীতির কারইে বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হয়। এ ছাড়াও হাওয়া ভবন, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতিও এর পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ফলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে নীরব বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন।

মওদুদ আহমদের এ বক্তব্যের জবাবে সোমবার পল্টন দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মওদুদ আহমদের বইয়ের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, মওদুদ নিজের বইতে জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি, দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলেকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। নিজেকে বাঁচাতে ও বাড়ি রক্ষার জন্য সরকারকে খুশি করার জন্যই তিনি এ ধরনের বই লিখেছেন। খালেদা জিয়া আপোসহীন, ন্যায়ের পথের পথিক। সারাজীবন তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। ছেলেদের বাঁচানোর জন্য নয়, দেশের জনগণের কথা চিন্তা করেই খালেদা জিয়া বাইরে যাননি। তার এ আপোসহীন কাজের জন্য তাঁকে নির্যাতিত হতে হয়েছে। তাই মওদুদ আহমদের বক্তব্য ঠিক নয়।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য যে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তাঁর বইতে এমন বক্তব্য কিভাবে এলো? চার দলীয় জোট সরকারের সঙ্গে জঙ্গীবাদের সম্পর্ক থাকলেও তিনি তো সে সময় মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তিনি সবকিছু জেনে থাকলে মন্ত্রিসভা থেকে তাহলে কেন পদত্যাগ করলেন না। তিনি সুবিধাবাদী, দলছুট বলেই তার মুখে এ ধরনের কথা শোভা পায়। কাদের খুশি করার জন্য তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তা জানা নেই। তবে তিনি অনেক দিন ধরে রাজনীতি করেন। যখন নিজের স্বার্থ আসে তখনই তিনি এ ধরনের কথা বলেন। এ জাতীয় নেতারাই সময়ের তালে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের রং বদলান। তারাই রাজনীতিতে ডিগবাজি খান। সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তবে রুহুল কবির রিজভী মওদুদের বইয়ের সমালোচনা করলেও তার এ সমালোচনা দলের নয়, ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে নিজের বই সম্পর্কে রিজভীর সমালোচনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, যেখানে আমি ভয় পেয়েছিলাম সরকার অসন্তষ্ট হবে। কিন্তু সেখানে দলের একজন সহকর্মী আমার ওপর অসন্তষ্ট হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর এ বই দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের সংশোধনীর জন্য। দলীয় ব্যক্তি হিসেবে বই লেখেননি। বই সম্পর্কিত সব অভিব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত। আশা করি সব ভুলত্রুটি শুধরে নিলে পরবর্তীকালে হয়ত বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারবে।

সুপ্রীমকোর্টের এ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, রিজভী বাড়ি রক্ষার জন্য সরকার খুশি করতে বই লিখেছি বলে উল্লেখ করেছেন। বাড়ির বিষয়ে বলব, বইটা লিখেছি অনেক আগে। আমি রাজনীতি করি। বিরোধী দলের নেতা এবং বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য, জোর করে বাড়ি থেকে বের করার জন্য সরকার একটা প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ২০১২ সাল থেকে। আর বইটা লেখা হয়েছে ৬/৭ বছর আগে। সুতরাং, বই লেখার সঙ্গে বাড়ির কোন সম্পর্ক নেই। সরকারকে সন্তুষ্ট করার প্রশ্নই ওঠে না। বাড়ির মামলা আইনী প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বইয়ের কোন মতামতের সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, রিজভীকে ছোট ভাইয়ের মতো মনে করেছি। তার অনেক লেখাপড়া আছে। তাকে অনেক স্নেহ করি। কিন্তু এখন যা শুনছি। তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তার কাছ থেকে আশা করিনি। ভেবেছিলাম আমার দল বা দলের নেতাকর্মীরা বইটিকে এপ্রিসিয়েট করবে। অভিনন্দন জানাবে, ধন্যবাদ জানাবে এ ধরনের একটি বই লেখার জন্য। কারণ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৭-২০০৮ সালে মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার কিভাবে রাজনীতিবিদদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। কিভাবে বিএনপির ওপর নির্যাতন করেছে। শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা ও বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার। তাছাড়া নির্বাচনে বিএনপি কেন পরাজিত হয়েছে তার অনেক কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তিনি বইটি পড়ে দেখার জন্য রহুল কবির রিজভীকে আহ্বান জানান।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বইয়ের সমালোচনা করে বলেন, গতকাল কে জানি বলেছেন মাহবুব উল্লাহ স্বাধীনতার ঘোষক। এ কথা তিনি কোথায় পেলেন। যিনি বলেছেন তিনি নোয়াখালীর লোক। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান নাই। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। আগামী দিনের দেশ পরিচালনা করতে পারবেন একমাত্র তারেক রহমানই। দুর্বৃত্তের হাত থেকে গণতন্ত্র ও দেশকে রক্ষা করতে পারবেন তারেক রহমান। সরকারের উদ্দেশে বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, যে সুরঞ্জিত বাহাত্তরের সংবিধানের স্বীকৃতি দেননি, স্বাক্ষর করেন নেই, তিনিই আজকে সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সপ্তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন দলের সাংগঠনিক অবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এভাবে দল চলতে পারে না। এলাকায় অনেক আলোচনা হয়। দলের মধ্যে অনেক কথা আছে যেটা প্রকাশ্যে বলা যায় না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, হতাশ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। হতাশ হলে রাজনীতি ছেড়ে দিন। এটা বিপদসঙ্কুল পথ। এখানে যুদ্ধ করতে হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে ২০০৮ সলের নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা হাওয়া ভবন সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও যুদ্ধাপরাধীদের যে অভিযোগ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছিল মওদুদের বইয়ে তা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, মওদুদ আহমদের বইয়ের মাধ্যমে যে স্বীকারোক্তি এটা শুধু মওদুদের নিজের নয়। এটা বিএনপিরও স্বীকারোক্তি।

উৎসঃ   জন কণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ