দিনাজপুর প্রতিনিধি: বীরগঞ্জ থানার ওসি শওকত হোসেন ও এস আই জাহাঙ্গীর আলম বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে একটি হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা বাদীর নিরক্ষতার সুযোগে হত্যার ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে মামলা করিয়ে নিয়েছেন। ফলে আইনের ফাঁক দিয়ে হত্যাকারীদের পার পেয়ে যাওয়ার সূযোগ তৈরী হয়েছে।
বুধবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর রাজবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুর রউফ। আব্দুল রউফের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার জামাই এরশাদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ১৪ বছর আগে আমার বোন মর্জিনা খাতুনের (৩২) সাথে পার্শ¦বর্তী চৌপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সামসুদ্দিনের বিয়ে হয় এবং তাদের দুই পুত্র সন্তান হয়। কিন্তু সামসুদ্দিন দেড় বছর আগে সাথী নামের আরেক মেয়েকে বিয়ে করে। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে আমার বোন মর্জিনার উপর সামশুদ্দিন অকথ্য নির্যাতন শুরু করে। দিনের পর দিন তার নির্যাতনের মাত্রা ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে। গত ৫ সেপ্টেম্বর তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে সামশুদ্দিন মর্জিনাকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মুখে জোড়পূর্বক বিষ ঢেলে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে বিষ ক্রিয়া শুরু হলে এলাকার লোকজন মর্জিনাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু অবস্থার অবনতির প্রেক্ষিতে পরে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানেও অবস্থার অবনতির প্রেক্ষিতে তাকে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে ৯ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল ১০টায় মজিনার মৃত্যু হয়।
আব্দুর রউফ বলেন, বোনকে হত্যার ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় হত্য মামলা করতে গেলে দারোগা বেলালের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়া হয়। মামলার জিডির বক্তব্য পুলিশের লোকেরাই লেখেন এবং আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক দু’টি কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। আমি লেখাপড়া জানিনা বিধায় বুঝতে পারিনি তার মধ্যে কি লেখা আছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জানতে পারি যে, আমার স্বাক্ষর নেয়া দু’টি কাগজে দুই রকমের বর্ননা দেয়া হয়েছে। একটিতে বলা হয়েছে যে, এই মৃত্যুর বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু এটা মোটেও সত্য নয়। আমার বোনকে তার স্বামী শামসুদ্দিন জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করেছে। সে একজন হত্যকারী। আমি এই হত্যার বিচার চাই। কিন্তু পুলিশ হত্যাকারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ নিয়ে দু’টি কাগজে দুই ধরণের বক্তব্য লিখে নিয়ে হত্যাকারীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। হত্যাকারীকে বাঁচানোর লক্ষ্যেই হত্যার ঘটনাকে অপমৃত্যু বলে পুলিশী রিপোর্টে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে। তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনা হত্যা মামলা হিসাবে নেয়ার জন্য দাবী জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাতোর ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন, নিহতের ভাবী জবেদা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুরে ছাত্রমৈত্রীর প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, দিনাজপুর জেলা শাখা ১৪ দফা দাবী বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, দিনাজপুর জেলা শাখা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিল থেকে বিজ্ঞান ভিত্তিক গণমুখি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের বরাদ্ধ বৃদ্ধিসহ ১৪ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন শ্লেগান দেয়া হয়। মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যায় এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত একটি স্বারকলিপি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হাতে হস্তান্তর করে। মিছিল ও স্মারকলিপি হস্তান্তরের সময়ে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি ফরিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মিলন হাবিব।