আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকালে দেশ দুটির মধ্যে ১২টি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বির্তকিত ভূমি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে বিবাদমান বৃহৎ দেশ দুটির মধ্যে নতুন চুক্তির ঘটনাকে যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি।
১২টি চুক্তির মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় ভারতে দু’হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে চীন। বাস্তবায়িত চুক্তিগুলো অনুযায়ী চীন ভারতের রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক করত তুলতে এবং রেলবহরে আধুনিক ও দ্রুত গতিসম্পন্ন রেল যোগ করতে সহায়তা করবে।
চীনের সহায়তায় গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে শিল্প পার্ক স্থাপনের পাশাপাশি চীনের বাজারে প্রবেশে অধিক সুবিধা পাবে ঔষধি ও কৃষিসহ ভারতীয় অন্যান্য পণ্য। এছাড়াও চুক্তি শেষে উভয় দেশ বাণিঝ্যিক সহায়তা বৃদ্ধি, মহাকাশ অভিযান ও বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলে।
নতুন এই চুক্তিগুলো প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে সুসম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেও এক্ষেত্রে দেশ দুটির সীমান্ত সংঘাত আবারো বাগড়া দিচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জিনপিংয়ের সফরকালেই ভারতের লাদাখ এলাকার একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করেছে চীনা সেনাবাহিনী।
অবশ্য বৃহস্পতিবার দিল্লীতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে জিনপিং ও মোদি উভয়েই সীমান্ত শান্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। এ সময় মোদি বলেন, সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে জিনপিং বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিথিশীলতা বজায় রাখায় ভারতের সঙ্গে কাজ করতে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশদের কাছে থেকে ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ১৯৬২ সালে এ নিয়ে যুদ্ধও করেছে দেশ দুটি। অবশ্য এই সংঘাতময় সম্পর্ক থাকা সত্বেও দেশ দুটির মধ্যে ক্রমশই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশ দুটির মধ্যে বর্তমানে বাৎসরিক বাণিজ্যের পরিমাণ সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলার। অবশ্য বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। ২০০১-০২ অর্থ বছরে যেখানে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১০০ কোটি ডলার সেখানে বর্তমানে তা চার হাজার কোটি মার্কিন ডলার।