• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নতুন চেয়ারম্যান সফিউল্লাহ

sofiulla_52102_52102ঢাকা : মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকারকে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্যপদসহ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহকে ফোরামের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুক্রবার সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুন হাবীবের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত এ কে খন্দকার সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার লেখা বই ১৯৭১ : ভেতরে বাইরে নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গত বুধবার এ কে খন্দকার ফোরাম থেকে পদত্যাগ করেন। সভায় তার পদত্যাগপত্র বিবেচনায় নিয়ে সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরী। সভায় এ কে খন্দকারের সদ্য প্রকাশিত ১৯৭১: ভেতর বাইরে বইটিকে মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে অভিহিত করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্তে বলা হয়, সভা মনে করে, বইটিতে এ কে খন্দকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সর্বজনগ্রাহ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে যে প্রকাশনা সংস্থা এবং যাদের হাতে সম্পাদিত হয়ে ‘বহুল বিতর্কিত’ বইটি বাজারজাত করা হয়েছে, তারাও ‘পরিকল্পিত’ ইতিহাস বিকৃতির দায়ভার এড়াতে পারে না।

সভা মনে করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর এ কে খন্দকার তাঁর বইটিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত মৌল বিষয়গুলিকে প্রায় পুরোটাই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন, যা বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসের বিকৃতি। বইটিতে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাসহ অন্যান্য সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন, যা চরম দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয় ।

সভার সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়, সভা মনে করে বইটির মাধ্যমে স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে এ কে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনানির্ভর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। ফোরামের নেতাদের যৌথ আহ্বান সত্ত্বেও তিনি বইটির তথ্যগত ত্রুটি ও বিভ্রান্তিগুলি সংশোধন করার প্রয়োজন বোধ করেননি। সভা মনে করে, বইটির মাধ্যমে এ কে খন্দকার সংবিধান ও স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রসহ মুক্তিযুদ্ধের সুপ্রতিষ্ঠিত মৌল ঘটনাবলির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, ফোরামের গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা ও নীতি-আদর্শের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি চক্রকে ইন্ধন জুগিয়েছেন। তার এই কার্যাবলি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অপসারণ ও বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ। সভায় এ নিয়ে আলোচনার পর তার পদত্যাগপত্র বিবেচনায় এনে তাকে ফোরামের সদস্যপদসহ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সভায় বক্তব্য দেন কে এম সফিউল্লাহ, সামসুল আলম, সারওয়ার আলী, হারুন হাবীব, ম. হামিদ, মো. নুরুল আলম, শাহজাহান, আনোয়ারুল আলম, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফারজানা শাহ্নাজ মজিদ, মোহা. আবদুল হাই, আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী, হাবিবুর রহমান শওকত, সৈয়দ দিদারুল আলম, মমতাজউদ্দিন পাটোয়ারী, শাহজাহান মৃধা, নুরুল আনোয়ার, সদরুজ্জামান, সাঈদুজ্জামান, মোশাররফ হোসেন, এম এস এ মনসুর আহমেদ ও তুষার আমীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ