সিসি নিউজ: বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে কুড়িগ্রামের কৃষকরা। বন্যা কবলিত এলাকায় রোপা-আমনের ক্ষতির পাশাপাশি কলা বাগান, আম, কাঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ নষ্ট হয়ে গেছে।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন তারা আমন চারা লাগাচ্ছে। যদিও আমন লাগানোর মৌসুম প্রায় শেষ। তারপরেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উচ্চ মূল্যে চারা কিনে নতুন করে আবারো জমিতে আমনের চারা রোপন করছে কৃষকরা।
এ ছাড়াও পতিত থাকা বেশির ভাগ জমিতে গম, সড়িষাসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল ও নষ্ট হয়ে যাওয়া গাছের চারা রোপন করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকরা।
সাম্প্রতিক বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় কৃষিতে। রোপা আমনসহ ৩৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল প্লাবিত হয়। এর মধ্যে ৩২ হাজার হেক্টর জমির আমন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হয় দীর্ঘদিন পানিতে তলিয়ে থাকা বিভিন্ন গাছপালাও।
কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী যার মূল্য দাড়ায় ২৪০ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ হয় এক লাখ ৯৯ হাজার কৃষক। ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দিশেহারা হয়েছে তারা। কৃষকরা উচ্চ মূল্যে চারা সংগ্রহ করে রোপন করলেও মৌসুম প্রায় শেষ হওয়ায় ফলন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে তারা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য গম, সড়িষা, ভুট্রাসহ মৌসুমী ফসলের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষের চারা রোপনে সরকারের সহযোগিতা কমানা করছেন কৃষকরা।
আমনসহ বিভিন্ন ফসল হানি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে কৃষকরা। প্রয়োজনীয় বীজতলা ও চারা না থাকায় এবার বিপুল সংখ্যক আমনের জমি পতিত থাকার আশংকা করছে কৃষকরা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক মতিন সরকার জানান, এবারের বন্যায় তিন একর জমির রোপা আমন সম্পুর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বেশি দামে আমনের চারা কিনে ৩০ শতক জমিতে লাগাচ্ছি। ধান না হলেও খড় দিয়ে গরুর খাবারটা তো হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক, ড. মো. আফসার আলী জানান, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের লেট ভ্যারাইটি আমন লাগানোসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল চাষের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কৃষিতে দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এ জেলার কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পতিত জমিতে লাভ জনক মৌসুমী ফসল বীজ, গাছের চারা, সারসহ উপকরনসহ কৃষি প্রনোদনা দিবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা কৃষকদের। কৃষি পুর্ণবাসনসহ প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে না পারলে এর বিরুপ প্রভাব জীব বৈচিত্র্যের ওপর পড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। উৎস: নতুন বার্তা