সিসি নিউজ : বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪ তে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ ও ছেলেদের ২১ বছর পূনঃবহালের দাবিতে নীলফামারীতে যৌথভাবে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি সংস্থা। রোববার বেলা সাড়ে ১০ টায় নীলফামারী চৌরঙ্গী মোড়ে নারী যোগাযোগ ফোরাম, কিশোর-কিশোরী ফোরাম ও-বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা উদয়ঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে নীলফামারী নারী যোগাযোগ কেন্দ্রর আহবায়ক আইনজীবি লায়লা আঞ্জুমান আরা ইতির সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দৌলত জাহান ছবি, নারী যোগাযোগ কেন্দ্রের সদস্য রশিদা বেগম, আইনজীবি আলপনা রায়, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাবেয়া রশিদ আয়না, পলাশবাড়ি কিশোর-কিশোরী ফোরমারে সভাপতি শফিকুল ইসলাম, ইউএসএস এর সমন্বয়কারী ওমর ফারুক, জেন্ডার ডেভলপমেন্ট অফিসার সালমা আক্তার, ইউএসএস’র পিজিএলকেআই প্রকল্পের সমন্বয়কারী মোনাজ্জিনী খান বক্তব্য রাখেন।
বক্তরা অভিযোগ করে বলেন, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এ খসড়া আইন মন্ত্রী পরিষদের আলোচনা সময় বিবাহের বয়স ছেলেদের ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ ও মেয়েদের ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধরণের প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকারের মানবাধিকার ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের পরিপন্থী এবং বাংলাদেশ সরকারের অনু স্বাক্ষরকৃত আন্তর্জাতিক সনদ সমূহ এবং শিশু অধিকার সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট জাতীয় আইনের পরিপন্থী।
বাল্য বিবাহের কুফল তুলে ধরে বক্তরা বলেন ‘বাল্য বিবাহে মা-শিশু উভয়েই স্বাস্থ্য ঝুকি বেশি, অল্প বয়সে বাচ্চা ধারণ এখনো অধিক শিশু ও মাতৃ মৃত্যুও হার এবং দারিদ্র ও অস্বাস্থ্যেও দুষ্ট চক্রেও অন্যতম কারণ। এছাড়াও অল্প বয়েসে বিবাহ হলে কন্যা শিশুরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। পলে তারা দেশের আর্থ-সামাজিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের নূতন এই প্রস্তাব বাতিল করে ছেলেদের ২১ ও মেয়েদেও ১৮ বছর করার দাবি জানান বক্তরা।
মানববন্ধন শেষে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এ বিয়ের বয়স মেয়েদের ১৮ ও ছেলেদের ২১ পুনঃবহাল রাখার দাবী জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারক লিপি।