নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী নিয়োগকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফরহাদ হোসেনকে মারধরের ঘটনায় দুই যুবলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে এই দুই জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ কর্মী মান্নান ও আলম।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু রায়হান মিয়া বাদী হয়ে সরকারী কর্মকর্তাকে আহত করার ঘটনায় ৬০ জনকে আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন। নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইলাম জানান, মামলার অন্য আসামিদের আটকের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮মাস পূর্বে নিয়োগ পাওয়া নৈশ প্রহরীদের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা ছিল। নিয়োগ পাওয়া ৩৯ জন নৈশ প্রহরীর নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল এবং এই পদে নিজেদের লোকজনদেরকে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে আসছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
গত বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ইউএনও ওইসব নৈশ প্রহরীর নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে তারা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ইউএনও’র সাথে দলের নেতা-কর্মীদের কথা কাটাকাটি শুরু হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইউএনও অফিস, সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস, কৃষি অফিস, খাদ্য অফিস ও জরিপ অফিসের বিভিন্ন কক্ষ ও জানালা-দরজা ভাংচুর করে। এসময় বাধা দিতে গেলে বিভিন্ন কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও মারধর করে আহত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।