সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে সেনা সদস্যকে মারধর করায় কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সচিবের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মফিজুর রহমান নামের ওই সেনা সদস্য নিজে বাদী হয়ে সোমবার রাতে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা সূত্র মতে, সোমবার সকালে কাপ্তাই সেনানিবাসের ওয়ারেন্ট অফিসার মফিজুর রহমান বদলী হয়ে সৈয়দপুর সেনানিবাসের সদর দপ্তরের ২২২ পদাতিক ব্রিগেড যোগদানের জন্য আসেন। সকালে বাস থেকে নেমে এসএ পরিবহনে পাঠানো নিজের ব্যবহৃত মালামালের পার্সেল উত্তোলনের জন্য শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কস্থ ওই পার্সেল অফিসে যান। অফিসের ম্যানেজার সেনা সদস্যকে জানান, পার্সেলে গাড়ীটি এক ঘন্টা দেরীতে শহরে প্রবেশ করবে। ভ্রমনে ক্লান্ত সেনা সদস্য ওই সময়ের জন্য পার্সেল অফিস সংলগ্ন জসিম বিল্ডিং-এর সৈয়দপুর রেষ্ট হাউসের একটি কক্ষ ৫০ টাকায় ভাড়া নেন। পরে ৮/১০ জনের একটি দল পর্যায়ক্রমে সেনা সদস্যের কক্ষে গিয়ে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে পকেটে থাকা ৮ হাজার ৭’শ টাকা কেড়ে নেয়। ওই সময় মফিজুর নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে টাকাগুলো দিতে অস্বীকার করলে তাকে বেদম প্রহার করা হয়। পরে তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে, অন্যথায় মেরে ফেলার ভয় দেখায়।
এ সময় মফিজুরের আত্মচিৎকারে পথচারীরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়ায় সৈয়দপুর থানার এসআই আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে সেনা সদস্যকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে গুরুতর আহত সেনা সদস্য মফিজুর সৈয়দপুরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় রাতে ওয়ারেন্ট অফিসার মফিজুর রহমান নিজে বাদী হয়ে কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান জিকো আহমেদ, সদস্য ও ইউপি সচিব সহ ৮জনের নামে একটি মামলা করেছে। আসামীরা হলেন, জসি (২৫), তুষার (৩০), সামসুদ্দিন (৫০), জিকো আহমেদ (২৮), আমজাদ হোসেন (৪৫), মাহবুব আলম (৩৫), জোবায়দুল (৩৬) ও এমদাদুল (৩৪)
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাঈল হোসেন সিসি নিউজকে জানান, থানায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, সৈয়দপুর রেষ্ট হাউসের মালিক জোবায়দুল রহমান ইউপি চেয়ারম্যান জিকো আহমেদের বাবা এবং প্রধান আসামী জসি তার ছোট ভাই।