সিসি নিউজ: নীলফামারীর ডিমলায় তনজিনা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধুকে কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর হাসপতালের বারন্দায় লাশ ফেলে রেখে পালিয়েছে পাষন্ড স্বামী। বুধবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের শালহাটী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তনজিনা ওই গ্রামের আইজুল ইসলামের স্ত্রী। রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের বারান্দা থেকে তনজিনার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. অনুপ কুমার রায় জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কেবা কাহারা এই গৃহবধুকে মাথায় এলোপাতারী কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্তায় হাসপতালের বারান্দায় ফেলে রেখে যায়। এসময় হাসপাতারের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রামবাসীর বরাত দিয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী জানান, পারিবারিক কলহলের জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় তনজিনার সাথে দেবর সিরাজুলের ঝগড়া হয়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে তনজিনার স্বামী আইজুল বাড়িতে আসলে দেবর সিরাজুল তাকে নালিশ করে। এনিয়ে তনজিনার সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয় স্বামী আইজুলের । এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আইজুল ঘরে থাকা মাঠি কাটা কোঁদাল দিয়ে তনজিনার মাথায় এলোপাতারী কোপ মারে এতে ঘটনাস্থলেই সজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে সে। পরে স্বামী ও দেবর তনজিমাকে আশংকাজনক অবস্থায় ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এসময় শারীরিক অবস্থার বেগতি দেখে হাসপাতালের বারান্দায় তনজিনাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী আইজুল ও দেবর সিরাজুল।
পরে হাসপাতারের বারান্দায় তনজিমাকে পড়ে থাকতে দেখে হাসপতালের কর্মরত কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার কওে জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। এসময় কর্ত্যবরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওসি আরো জানান, এই ঘটনায় রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী ও দেবরসহ স্বামীর পরিবারের সকলে পলাতক রয়েছে। তবে তাঁদের গ্রেফতার করতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।