সিসি নিউজ: শুনানি ছাড়াই গোপনে গোপনে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করেছে জামায়াতে ইসলামী। ১৮ অক্টোবর দেশের সব জেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোট গণনা শেষে ৩১ অক্টোবর জেলা আমিরদের তালিকা প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় জামায়াত। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদ থাকবে জেলা কমিটির।
জামায়াত সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক।এই সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারলে সামনে আর সম্ভব নাও হতে পারে। তাই অনেকটা গোপনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আমিরদের তালিকা প্রকাশের পর জেলা সেক্রেটারি মনোনয়নসহ উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, এমনকি ইউনিট পর্যায়ে নেতা নির্বাচন সম্পন্ন করবে দলটি। তৃণমূলের নির্বাচন শেষ হলে মহানগর, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরা পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে দলের বিভিন্ন সূত্র।
বিভিন্ন জেলা জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে দেশের সব জেলা আমির নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য দলীয় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের একটি চিঠি ইস্যু করেছে জামায়াত। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রধান নির্বাচন পরিচালক মাওলানা এটিএম মাছুমের পক্ষ থেকে ওই চিঠিতে বেশকিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
চিঠিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও জেলা আমিরদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “বর্তমান জেলা আমিরদের কার্যকাল ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি পারমিট (অনুকূল) করেনি বিধায় আমিরে জামায়াত (কেন্দ্রীয় আমির) নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলাপ করে নতুন নির্বাচন স্থগিত রেখে জেলা ইমারতের (সংগঠনের) কার্যকাল অব্যাহত রাখেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতির কিছুটা আনুকূল্যের সুযোগে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ২০১৫-১৬ কার্যকালের জন্য জেলা আমির, জেলা মজলিসে শূরা ও জেলা মহিলা মজলিসে শূরা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করছে।”
ওই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তফসিল অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে জেলা আমির নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আর ৩১ অক্টোবর নির্বাচিত জেলা আমিরদের তালিকা প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় জামায়াত।
নির্বাচিত জেলা আমিররা দলের জেলা মজলিসে শূরা সদস্যদের মধ্য থেকে পছন্দমতো একজনকে জেলা সেক্রেটারিসহ অন্যান্য পদে মনোনয়ন দেবেন। এরপর উপজেলা, থানা ও পৌরসভা আমির নির্বাচন এবং পরে ইউনিয়ন ও ইউনিট পর্যায়ে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন তারা।
এদিকে নেতা নির্বাচনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে দফায় দফায় কর্মী ও দায়িত্বশীলদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে কেন্দ্রীয় নেতারাও যোগ দিচ্ছেন। এ সময় তারা দলের আগামী দিনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হচ্ছে না। অনেকের দাবি, মিডিয়ায় নাম প্রকাশ হলে গোয়েন্দা সংস্থা ওই নাম ধরে খোঁজে। আর পুলিশ অহেতুক মামলা দিয়ে হয়রানি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুর জোনের এক কর্মপরিষদ সদস্য বলেন, “পরিস্থিতি আগের চেয়ে একটু স্বাভাবিক। ধরপাকড় তুলনামূলক কম দেয়া হচ্ছে, পুলিশের হয়রানিমূলক অভিযান চলছে না। তাই নির্বাচনগুলো সেরে নেয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্টদের নিজেদের এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে রোকনদের (সদস্য) ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করতে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেসব জেলায় একসঙ্গে সব সদস্যের ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়, সেখানে আলাদা আলাদাভাবে ভোটগ্রহণ করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশন মতো তিনটি স্থানে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।”