সিসি নিউজ: অপহরণের পরে আমাকে প্রচন্ড মারধর করে। লাথি দিয়ে দুই তলার উপর থেকে ফেলে দেয়া হয়। অনেক চিৎকার চেচাঁমেচি ও অনুনয় বিনয় করি তাতেও ওদের মন গলে নি-কথাগুলো বলছিলেন অপহরণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার পাওয়া যশোরের ধনাঢ্য সিএ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা ও ৫ নম্বর ফুটখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি।
রাজধানীর মিন্টোরোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এভাবেই বন্দী অবস্থায় তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-মো. আবদুল মান্নান পলাশ (৩২), জিএম জুবায়ের আহমেদ (২২), মো. মজিবুর রহমান (৪৪), মাহবুবুর রহমান জিসান (১৭) , জান্নাতুল ফেরদৌস জোসনা (৩২) ও বৃষ্টি আক্তার (১৭)।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০০৬ সালের দিকে জান্নাতুল ফেরদৌস জোসনা ইন্ডিয়ান লাগেজের ব্যবসায় করতেন। ওই সময়ে আমি তাকে কাস্টমসের কাজে নানা ধরনের সহযোগিতা করতাম। ওই সুবাধে সে আমাকে ভাই বলে সম্মোধন করত।
আরেক অপহরণকারী মো. আবদুল মান্নান পলাশ আমার জামাইয়ের মামা। তার সাথে আমার জামাইয়ের ইমপোর্টের ব্যবসায় ছিল। প্রায় ৬ মাস আগে ওই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে তার সাথে আমাদের শত্রুতার সৃষ্টি হয়। তবে অপহরণকারী বৃষ্টি আক্তারকে আমি চিনিনা। তাকে আমি ওই বাসায় প্রথম দেখেছি। ঘটনার দিন আমি উকিলের বাসায় যাচ্ছিলাম তখন জোসনা, পলাশ ও অন্য অপহরণকারীরা আমাকে জোর করে মানিকনগরের জোসনার বাসায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে।
রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর এলাকা থেকে অপহৃত সিএ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবিকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬অপহরণকারীর কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানায়, যে হাবিবুর রহমান একজন ধনাঢ্য সিএ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী। তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অপরহরণকারীরা কৌশলে যশোর থেকে ব্যবসায়িক কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসেন।
গত সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে নভো এয়ারের একটি ফ্লাইটে যশোর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন।
বিমানবন্দর থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় পৌছামাত্র অপহরণকারীরা কৌশলে তাকে মুগদা থানার মানিকনগরের একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখে।
পরে তার কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায় করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম হাবিবুর রহমানের আত্মীয় স্বজনরা রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেন।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আবদুল মান্নান পলাশ একজন অস্ত্র চোরাকারবারী। অন্যরা অপহরণকারী দলের সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করাই তাদের একমাত্র পেশা।
গ্রেপ্তার অভিযানটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আহমেদের তত্ত্বাবধানে জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার এসএম নাজমুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ,ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, ঢাকা মহানগর জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আহাদ।