আন্তর্জতিক ডেস্ক: ইবোলা সংক্রমণে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৭০৩ বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে সংস্থাটি জানায়, ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও গিনির অধিবাসী। এ তিন দেশেই মূলত ইবোলা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইবোলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হয়েছে লাইবেরিয়ায়। সেখানে ৬ হাজার ৫৩৫ জন মানুষকে ইবোলা আক্রান্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সিয়েরা লিওনে ৫ হাজার ২৩৫ এবং গিনিতে ১ হাজার ৯০৬ জন ইবোলা আক্রান্ত বলে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কতজন মারা গেছে, তার প্রকৃত সংখ্যা এখনও প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
এদিকে ওই সংস্থার সহকারী পরিচালক বরুস আইলওযার্দ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সম্ভবত ইবোলা আক্রান্তে প্রাণহানির সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪ হাজার ৯২২ জন প্রাণ হারান বলে জানায় সংস্থাটি। ওই তিনটি দেশের বাইরেও অন্যান্য দেশে ২৭ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নাইজেরিয়ায় ৮, মালিতে এক এবং যুক্তরাষ্ট্রে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন পর্যন্ত আটটি দেশে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সেনেগাল ও নাইজেরিয়াকে ইবোলামুক্ত দেশ ঘোষণা করেছে ডবিস্নইএইচও। তারা জানায়, ইবোলা আক্রান্ত অনেককে আত্মীয়স্বজনরা চিকিৎসা কেন্দ্রে না পাঠিয়ে বাড়িতে রেখে দিচ্ছেন। অনেক চিকিৎসা কেন্দ্রে নতুন রোগীদের জায়গাও হচ্ছে না। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইবোলা সংক্রমণ প্রতিরোধে তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিলিপাইনের আহ্বান : ফিলিপাইন বৃহস্পতিবার সে দেশের কয়েকশ’ নাগরিককে ইবোলা আক্রান্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ফিরে আসা যে কাউকে ২১ দিন আলাদা রাখা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে ফিলিপাইন। তাদের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র লিনডন লি সুই বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইবোলা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার কারণে আগামী মাসে লাইবেরিয়া থেকে ফিলিপাইনের শতাধিক শান্তিরক্ষীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তাদেরও একটি সামরিক ঘাঁটিতে আলাদা করে রাখা হবে। এদিকে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবার্ট ডেল রোজারিও বলেন, সরকার লাইবেরিয়া, গিনি ও সিয়েরা লিওনে কর্মরত প্রায় ৯০০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। রোজারিও আরও বলেন, ফিলিপাইনের প্রায় ১ কোটি নাগরিক বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। ঘাতক ভাইরাস ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সুত্র: মিডেল টাউন প্রেস, চ্যানেল নিউজ এশিয়া