• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

দ্রুত তিন রায়ে দিশেহারা জামায়াত

Jamatঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরপর দুটি ফাঁসির রায় ও আজ সোমবার আপিল বিভাগে কামারুজ্জামানের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সিদ্ধান্তে দিশেহারা হয়ে পড়ছে জামায়াত-শিবির। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে হতাশার খবরই পাওয়া গেছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগরীর এক নেতা বলেন, “স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সংকট এখন মোকাবেলা করছে জামায়াত-শিবির।  সাত দিন ধরে অসম্ভব প্রেসার যাচ্ছে আমাদের নেতাদের। চাপে পড়েছে সংগঠন। কামারুজ্জামান সাহেবের মামলায় চূড়ান্ত আপিলের রায়।  মনে হচ্ছে আমরা শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার মতো আরেকটি ঘটনা দেখতে পাচ্ছি।”

২৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এই মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার সর্বোচ্চ আদালত দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলার রায় দেবেন। পরপর রায়গুলো কেন হচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা বুঝে উঠতে পারছে না। পাচ্ছে না দিকনির্দেশনাও।

দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার ও রায় ঘোষণার পর থেকে হরতাল দিয়ে কঠোর আন্দোলন করছে জামায়াত-শিবির। কিন্তু সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা সুবিধা করতে পারে নি।বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে তাদের সব চেষ্টা।  এ ছাড়া শীর্ষস্থানীয় নেতাদের শূন্যতা কাটাতে না পারা, যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, নেতাদের বর্তমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন, বিরোধী পক্ষের জঙ্গি ও মৌলবাদ বলে তকমা দেয়া ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চরম সংকটে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এমন অবস্থায় বর্তমানে দলটি  অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। দলের নেতাকর্মীরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে।যার কারণে সাংগঠনিক কর্মসূচিও গতি পাচ্ছে না।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন বিভিন্ন মামলার রায় পেন্ডিং থাকায় দলটির বর্তমান শীর্ষ নেতারাও ভাবতে পারেন নি ট্রাইব্যুনাল-আপিল বিভাগে নেতাদের পরপর রায় হবে। হিসাব মেলাতে পারছেন না তারা।”

রোববার জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ বলেছেন, “সরকার পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। জামায়াত নেতারা সরকারি ষড়যন্ত্রের শিকার।”

ধারাবাহিক এ রায়ের প্রতিবাদে দলটির প্রথমে ৭২ ঘণ্টা হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর বৃহস্পতি ও রোববার কর্মসূচি পালন করেছে। রোববারই নির্বাহী পরিদষদ মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হয়েছে। এরপরে দলটি আবারো বৃহস্পতিবার একদিনের হরতালের দেয়। এই কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কামারুজ্জামানের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার তারিখের খবর আসে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পরে দলটির নেতাকর্মীরা।

জামায়াতে ইসলামীর একজন মজলিসে শূরা সদস্য বলেন, “আমরা জানি না সরকার কেন এতো দ্রুত রায় দিচ্ছে। সরকার হয়তো চাচ্ছে রায়গুলো দিলে নেতাকর্মীরা সহিংস হয়ে উঠবে।তখন সরকার বহির্বিশ্বকে দেখাতে পারবে বাংলাদেশে জঙ্গি আছে। কিন্তু নেতাকর্মীরা বুঝে-শুনেই সামনের দিকে এগুবে।”

নতুন বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ