• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

আজ পবিত্র আশুরা

1323109598_32204_8977সিসি ডেস্ক: আজ মঙ্গলবার ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। দিনটি মহানবী রাসূল সা:-এর দৌহিত্র ও হজরত আলী রা:-এর ছেলে হজরত ইমাম হুসাইন রা:-এর শাহাদতের শোকাবহ স্মৃতিবিজড়িত। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম শুক্রবার ইমাম হুসাইন রা: ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে হজরত মুয়াবিয়া রা:-এর ছেলে ইয়াজিদের সৈন্যবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে শাহাদত বরণ করেন। ইসলামের খেলাফত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রিক শাসন এবং ইসলামি শরিয়তবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ করার কারণেই তাকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়। ইসলামের ইতিহাসে এ এক মর্মন্তুদ ঘটনা। মুসলমানদের জন্য এ এক শোকাবহ দিন আজ।
আশুরা শব্দটি মূলত আরবি ‘আশারা’ শব্দ থেকে এসেছে। ‘আশারা’ অর্থ দশ। মহররম মাসের ১০ তারিখ এ জন্য আশুরা হিসেবে পরিচিত।
ইসলামের ইতিহাসে ১০ মহররম আরো অসংখ্য ঘটনার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, এ দিনে হজরত মুসা আ: আল্লার ইচ্ছায় ফেরাউনের কবল থেকে তার অনুসারীদের মুক্ত করেন এবং নীল নদে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনীকে ডুবিয়ে মারেন। এ জন্য কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এ দিন মুসা আ: রোজা রেখেছিলেন। এ কারণে ইহুদিরা এ দিনে রোজা রাখেন। আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ সা: নিজে এ দিনে রোজা রেখেছেন এবং উম্মতকে এ দিনে রোজা রাখার আদেশ দেন। তবে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর রাসূল সা: আর আশুরার রোজা রাখার জন্য কাউকে আদেশ করেননি এবং নিষেধও করেননি। বর্তমানে মুসলমানেরা নফল হিসেবে আশুরায় রোজা রাখেন। তবে শুধু ১০ মহররম রোজা রাখার পরিবর্তে তার আগের দিন বা পরের দিনসহ মোট দুইটি রোজা রাখার কথা হাদিসে এসেছে, যাতে করে ইহুদিদের সাথে ইবাদাতের দিক থেকে মুসলমানদের একটু পার্থক্য থাকে। আশুরার দিনে হজরত নুহ আ: মহাপ্লাবনের পর নৌকা থেকে ভূমিতে অবতরণ করেন। এ ছাড়া এ দিনে আসমান-জমিন সৃষ্টিসহ নানা ঘটনা সংঘটিত হওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।
মূলত ইমাম হুসাইন রা:-এর করুণ শাহাদতের ঘটনার স্মরণেই সমগ্র বিশ্বের মুসলমানেরা প্রতি বছর আশুরা পালন করেন। ইসলামের খেলাফতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে ইমাম হুসাইনের আত্মত্যাগ এবং তার বিপরীতে রাজতন্ত্রের পতাকাবাহী ইয়াজিদের অপকর্ম ও নিষ্ঠুরতার কথা শত শত বছর পরও মুসলমানদের সামনে ভেসে ওঠে মহররমের দিনগুলোতে। হজরত মুয়াবিয়া রা:-এর ইন্তেকালের পর নিজ ছেলে ইয়াজিদ সাম্রাজ্যের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। অথচ এ ক্ষমতা ইমাম হুসাইনকে দেয়ার কথা ছিল। ইমাম হুসাইন এ অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন এবং শাসনকাজ পরিচালনায় অযোগ্য ইয়াজিদের আনুগত্য মেনে নিতে অস্বীকার করেন। তিনি খেলাফতের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য জনমত গঠনের প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। এ দিকে ইয়াজিদ হুসাইনকে নিজের পথের কাঁটা মনে করে তাকে দমন করার নানা কৌশল গ্রহণ করতে থাকেন। ইমাম হুসাইন একপর্যায়ে মদিনা থেকে মক্কায় চলে যান। সেখানে অবস্থানকালে কুফাবাসীর পক্ষ থেকে ইমাম হুসাইনের কাছে চিঠি আসতে থাকে যে তারা তার হাতে বায়াত গ্রহণ করবেন এবং তাকে ইরাক যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ পেয়ে ইমাম হুসাইন তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে সপরিবারে সফরে বের হন। হুসাইনের কাফেলা যখন ইরাকের ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা প্রান্তরে তখন ইয়াজিদ বাহিনী তাকে ঘেরাও করে ফেলে। ২ মহররম তিনি সেখানে তাঁবু স্থাপন করেন। ইয়াজিদ বাহিনী তাদের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তাদের ওপর নানা নির্যাতন চালাতে থাকে। একে একে তার সফরসঙ্গী ও পরিবারের সব সদস্যের মৃত্যুর পর সর্বশেষ ১০ মহররম ইমাম হুসাইনের শিরচ্ছেদ করে ইয়াজিদ বাহিনী।
এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইয়াজিদ বাহিনী পৈশাচিক নির্মমতার ঘৃণ্য ইতিহাস সৃষ্টি করে। অন্য দিকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সপরিবারে আত্মোৎসর্গের এক মহান ইতিহাস সৃষ্টি করেন ইমাম হুসাইন রা:। খেলাফত থেকে রাজতন্ত্র চালুর বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন আন্দোলন না করলে হয়তোবা রাজতন্ত্র যে ইসলামের খেলাফত ব্যবস্থার বিচ্যুতি তা মানুষ উপলব্ধিই করতে পারত না। তাই ইমাম হুসাইনের সেই আত্মত্যাগ, সেই আন্দোলন যুগ যুগ ধরে বিশ্ব মুসলিমের জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নয়াদিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ