• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

জলঢাকায় পাঁচ সাংবাদিককে সাড়ে তিন ঘন্টা আটকে রাখলেন ইউএনও

Joldhakaমিটুল চৌধুরী, সিসি নিউজ : একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধাভোগী এক সদস্যকে মারধরের বিষয়ে জানতে গেলে স্থানীয় পাঁচ সাংবাদিককে আটকে রাখলেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসান হাবিব। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গন্যমান্যদের সমঝোতায় সাড়ে তিন ঘন্টা পর ইউএনওর কক্ষ থেকে মুক্ত হন।
আটক হওয়া সাংবাদিকরা হলেন এটিএন নিউজ, এটিএন বাংলা ও দৈনিক করতোয়ার নীলফামারী প্রতিনিধি মিল্লাদুর রহমান মামুন, জলঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, একুশে টেলিভিশন জেলা ও দৈনিক করতোয়ার জলঢাকা উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুবর রহমান মনি, চ্যানেল আইয়ের নীলফামারী প্রতিনিধি আনোয়ারুল আলম প্রধান ও ক্যামেরা পার্সন সাদ্দাম আলী ও মাইনুল ইসলাম।
সাংবাদিকরা জানান, বুধবার দুপুর দুইটার দিকে সুবিধাভোগীকে লাথি মারার বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবীবের কক্ষে গেলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের গ্রেফতারের জন্য জলঢাকা থানায় ফোন করেন। তবে ইউএনওর ডাকে সেখানে কোন পুলিশ যাননি।
পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা-কিশোরগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতাদের উপস্থিতিতে সাড়ে তিন ঘন্টা পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ইউএনও হাসান হাবীব নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে  ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ না করার প্রতিশ্র“তি দিলে সাংবাদিকদের সেখান থেকে স্থানীয় প্রেসক্লাবে নিয়ে আসেন সংসদ সদস্যসহ অন্যান্যরা।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধাভোগী বেলাল হোসেন বলেন, জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের ইজারাদার পাড়া সমিতির ৬০ জন সদস্যের মধ্যে আমিসহ ৫৮ জন সদস্যের এক লাখ ৩০ হাজার টাকা আমার কাছে জমা ছিলো। সেই টাকার জন্য ইউএনও স্যার ও বিআরডিবি কর্মকর্তারা চাপ দিলে মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে ওই টাকা পরিশোধের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তিন মাসের সময় চাইতে যাই। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনওর উপস্থিতিতে উপজেলা পল্লী  উন্নয়ন কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা ও সুপারভাইজার মাহফুজার রহমান আমাকে বেধরক পেটায়। এর পর সেখান থেকে আমাকে টেনে হিচরে পল্লী উন্নয়ন অফিসে নিয়ে দরজা বন্ধ করে আবারো পেটাতে থাকেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবিব সেখানে গিয়ে আমাকে লাথি মারেন। পরে এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে আমি জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। কিন্তু সেখানেও ইউএনও সাহেবের চাপের মুখে চিকিৎসক রাত ১০ টার দিকে আমাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়তে বাধ্য করেন।
এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি মিল্লাদুর রহমান মামুন অভিযোগ করে বলেন, বেলাল হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে গেলে ইউএনও আমাদের আটকিয়ে রেখে এবং পুলিশে খবর দেন। পরে সারে তিন ঘন্টা পর স্থানীয় সাংসদের মধ্যস্থ্যতায় আমরা ছাড়া পাই। এর আগেও তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা তার কক্ষে গেলে তিনি সাংবাদিকদের পুলিশ ডেকে মোবাইল কোর্টে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সাংবাদিক মানিক লাল দত্ত জানান, ইউএনও সাহেব সবসময় সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। কিছুদিন আগে ইউএনও তার ক্যামেরা কেড়ে নেন বলে জানান তিনি।
জলঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান মনি বলেন, ইউএনও সাহেব এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই সাংবাদিকরা তথ্য চাইতে গেলে সাংবাদিকদের সাথে অশৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তার বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের সংবাদ হলেই তিনি সাংবাদিকদের ওপড় ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রেফতারের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ইউএনও হাসান হাবীব সাংবাদিকদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সাংবাদিকদের সাথে সামান্য ভুল বোঝাবোঝি হয়েছিলো। পরে ঠিক হয়ে গেছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোঃ জাকীর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। একজন সরকারী কর্মকর্তা কারো সাথে এরকম আচরণ করতে পারেননা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক ও ইউএনও উভয়ের সাথে কথা বলে সেখান থেকে সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবে নিয়ে আসি। ইউএনও ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ