সিসি নিউজ : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়নে জোরতালে চলছে ইরি-বোরো ধান গৃহস্থের ঘরে তোলার ধুম। ধান কেটে ঘরে তোলার উপযোগী হয়েছে ৮০ ভাগ ক্ষেতের ফসল। বাকি ফসল সপ্তাহখানেকর মধ্যে কাটার উপযোগী হয়ে উঠবে। সপ্তাহখানেক আগে দু’এক পশলা বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক নিচু জমিতে পানি জমে গেলে কৃষকরা বিপাকে পড়ে। অবশ্য পরে রোদে ও তাৎক্ষণিক পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগের ফলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসে। এ মহুর্তে ধানের ফলন যেমনই হোক না কেন কৃষক ও গৃহস্থরা নিজ নিজ জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। প্রতিটি ছোট-বড় গৃহস্থের এখন নতুন ফসল ঘরে তোলা ও ধান মাড়াই নিয়ে কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে।
গ্রাম-গঞ্জের রাস্তা-ঘাট, বাড়ির উঠোন, খোলা মাঠ-ময়দান সর্বত্র এখন মাড়াই করা ধান ও খড় শুকানোর হিড়িক পড়ে গেছে। তবে অনেক প্রান্তিক চাষীর ক্ষেতের ধান চলে যাচ্ছে দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে। চাষাবাদের শুরুতে অতিউচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে খরচ মিটিয়েছে ছোটখাটো চাষীরা। এখন সে ঋণের টাকা শোধ করতে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা। আবার অনেকে অভাবের তাড়নায় আগাম ক্ষেতের ফসল বিক্রি করেছে। তাই এ ধরনের কৃষকের মুখে নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ অনেকটাই ম্লান। এবার বিআর-২৮, বিআর-২৯, বিআর-৩০ ও ইরাটন জাতের ফসলই বেশি আবাদ হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ারা মন্ডল জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং কৃষকরা সময় মত সার, কীটনাশক পাওয়া, রোগবালাই তেমন না হওয়া ও কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে ইরি-বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রার আশানুরুপ হয়েছে।
উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কৃষক তৈয়ব ও রেজাউল জানান, সময় মত সার, বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ইরি-বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। এবার ধানগাছে তেমন কোন রোগবালাই ছিলনা, সময় মত কীটনাশক, সার পাওয়া গেছে। আর মৌসুমী আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফসল ভালো হয়েছে।