সিসি ডেস্ক: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ হওয়া মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসনের উপনির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নতুন মুখের অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে তৎপরতা দেখাচ্ছেন।
এর মধ্যে নাম শোনা যাচ্ছে টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কুদরত-ই-এলাহীর নাম। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এ সদস্য উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে পারেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
এলাকার সৎ, যোগ্য, শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত কুদরত-ই-এলাহী মাঠে ময়দানে নেমেও পড়েছেন। সাধারণ জনগণ ও ভোটারদের কাছে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা করছেন। তিনি জনসংযোগ ও মতবিনিময়সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজেও সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
মূলত মন্ত্রী সভা থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অপসারিত হওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে টাঙ্গাইলের রাজনীতি। জেলায় কয়েক যুগ ধরে আওয়ামী লীগ ধারার রাজনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসা সিদ্দিকী পরিবার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিদ্দিকী পরিবার কেন্দ্রীক টাঙ্গাইলের রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতেই লাতিফ সিদ্দিকীর আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে নবীন প্রবীণদের মধ্যে। এ তালিকায় রয়েছেন কালিহাতি উপজেলা চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল হাজারী ও নাসির আহমেদ। তারাও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। হাটে বাজারে পাড়া মহল্লায় গিয়ে দোয়া চাচ্ছেন।
তবে এর মধ্যে জোরে সোরে আলোচনা চলছে কুদরত-ই-এলাহীকে নিয়ে। কারণ তার পরিবারও আগে থেকে আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিগত সময়ের নানা আন্দোলন সংগ্রামে রয়েছে এ পরিবারের অবদান।
এলাকায় উচ্চশিক্ষিত হিসেবেও রয়েছে কুতরত-ই-এলাহীর সুনাম। ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএসএস (অনার্স) ডিগ্রি নেন। এরপরের বছর তিনি এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। শুধু তাই নয়, তিনি আইনে বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। বর্তমানে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিডেটের নির্বাচিত সভাপতি। এছাড়া টাঙ্গাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি জেলা শাখার আজীবন সদস্য।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুদরত-ই-এলাহী বলেন, ‘কালিহাতিবাসীর পাশে থেকে আজীবন কাজ করে যেতে চাই। জনগণ চাইলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাবো। ধর্মীয় মুল্যবোধকে উজ্জীবিত করে আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করতে আমি সবসময় প্রস্তুত। ’
তিনি আরো বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন তার দোয়া নিয়ে কাজ করতে চাই।
উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হজ, মুহাম্মদ (স.) ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন লতিফ সিদ্দিকী। তার ওই বক্তব্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় এক ডজনেরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।